হল না পাঁচে পাঁচ, পরপর সুযোগ নষ্টের জেরে বেঙ্গালুরুর কাছে আটকে গেল মোহনবাগান

হল না পাঁচে পাঁচ, পরপর সুযোগ নষ্টের জেরে বেঙ্গালুরুর কাছে আটকে গেল মোহনবাগান

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


মোহনবাগান ০   বেঙ্গালুরু ০

অসংখ্য গোল মিস! আর তার খেসারত দিয়ে টানা চার ম্যাচ জেতার পর অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে প্রথম পয়েন্ট খোয়াল মোহনবাগান। পাঁচে পাঁচ করার লক্ষ্য নিয়ে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে নেমেছিল মোহনবাগান। কিন্তু কান্তিরাভায় সুনীল ছেত্রীদের দলের কাছে গোলশূন্য ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে হবে সবুজ-মেরুনকে।

আরও পড়ুন:

রবিবার কান্তিরাভা স্টেডিয়ামমুখো ছিল জনতার ঢল। সুনীল ছেত্রীদের হয়ে গলা ফাটাতে হাজির হয়েছিলেন সমর্থকরা। সেটাই স্বাভাবিক। তবে কলকাতা থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে একটা শহরে মোহনবাগান সমর্থকরাও দলে দলে এসেছিলেন। সবুজ-মেরুন জার্সিতে দিমিত্রি পেত্রাতোসের শততম ম্যাচে কান্তিরাভায় বিশেষ টিফোও নামায় সমর্থকরা। অন্যদিকে, গোলাপি জার্সিতে মাঠে নামে বেঙ্গালুরু এফসি। নারীদের সম্মানে সুনীল ছেত্রী, আশিক কুরুনিয়নদের বিশেষ এই উদ্যোগ দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে বেঙ্গালুরু ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন তাঁদের মা-স্ত্রীরা। সব মিলিয়ে বর্ণোজ্জ্বল পরিবেশেই শুরু হয় খেলা। 

বেঙ্গালুরুর খেলা দেখে মনে হল কোচ রেনেডি সিং হয়তো ড্র করার মানসিকতা নিয়েই নেমেছিলেন। বিক্ষিপ্ত কিছু আক্রমণ এবং সবুজ-মেরুন আক্রমণকে আটকেই বোধহয় সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন সুনীল। অন্যদিকে, গোল নষ্টের প্রদর্শনী চলল মোহনবাগানেরও।

মোহনবাগান কোচ বিশেষভাবে সতর্ক ছিলেন বেঙ্গালুরুর উইং প্লে নিয়ে। মোহনবাগানে গতবার খেলে যাওয়া আশিক কুরুনিয়ান ছিলেন বেঙ্গালুরু দলে। গোলের মধ্যে রয়েছেন রায়ান উইলিয়ামসও। সেই মতোই পরিকল্পনা সাজান লোবেরা। অভিজ্ঞ সুনীল, আশিক, রায়ানদের আটকাতে রক্ষণে টম অলড্রেড ও আলবার্তো রডরিগেজকে প্রথম একাদশে খেলান বাগান কোচ। তাতে বিপক্ষকে আটকে রাখা গেল বটে, কিন্তু জেমি ম্যাকলারেন, দিমিত্রি পেত্রাতোস সমৃদ্ধ ধারাল আক্রমণভাগও গোলমুখ খুলতে পারল না। যদিও খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যেতে পারত বেঙ্গালুরু। অসাধারণ জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন রায়ান উইলিয়ামস। দুর্দান্ত সেভ বিশাল কাইথের। প্রথম কোয়ার্টারের পর থেকে খোলস ছেড়ে বেরতে চেষ্টা করেন বাগান ফুটবলাররা। এরপর গোটা ম্যাচ জুড়েই দাপট থাকে মোহনবাগানেরই। কিন্তু ডেডলক ভাঙেনি।

অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর খেলা দেখে মনে হল কোচ রেনেডি সিং হয়তো ড্র করার মানসিকতা নিয়েই নেমেছিলেন। বিক্ষিপ্ত কিছু আক্রমণ এবং সবুজ-মেরুন আক্রমণকে আটকেই বোধহয় সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন সুনীল। অন্যদিকে, গোল নষ্টের প্রদর্শনী চলল মোহনবাগানেরও। সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ে খেই হারিয়ে ফেললেন আলবার্তো রডরিগেজ। অতিরিক্ত স্কিল দেখাতে গিয়ে নিজের এবং দলের চাপ বাড়ালেন লিস্টন কোলাসো। তবে এদিন চলতি মরশুমের আইএসএলে সাত গোলের মালিক অজি বিশ্বকাপার ম্যাকলারেন বেঙ্গালুরু ডিফেন্ডারদের রক্ষণ-ব্যূহে কার্যত বোতলবন্দি ছিলেন। তিনি বিশেষ কিছু করতে পারলেন না। 

তার উপর ৭০ মিনিটে গোল লাইন সেভ হল। ৮৩ মিনিটে বিপক্ষ গোলকিপার গুরপ্রীতকে একলা পেয়েও বাইরে মারেন দিমিত্রি। ম্যাচের সহজতম সুযোগ বলা চলে সেটাই। গোলটি পেলে শততম ম্যাচে গোল করে মোহনবাগানকে জেতাতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্যদেবতার হয়তো তেমন ইচ্ছা ছিল না। শেষের দিকে জেসন কামিংসকে পরিবর্ত হিসাবে নামিয়েও কাজের কাজ হল না। একাধিক গোল মিসের মাশুল দিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে গোলশূন্য ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল সবুজ-মেরুনকে। তবে পাঁচ ম্যাচে ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামশেদপুর এক ম্যাচ কম খেলে সবুজ-মেরুনের চেয়ে ১ পয়েন্টে পিছিয়ে। মোহনবাগানের পরের ম্যাচ ২০ মার্চ, মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *