দুই শিবিরে বিভক্ত এনসিপি-র মিলন জল্পনা নিয়ে যখন ‘উথাল-পাথাল’ জাতীয় রাজনীতি, তখন শরদ পওয়ারকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে এনসিপি প্রধানের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন তিনি। তবে শরদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিঠল মানিয়ার জানান, ফোনালাপে শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ চালানোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি পুণেতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিঠল। তিনি বলেন, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী সাহেবের (শরদ) স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। তিনি অত্যন্ত স্নেহ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সাহেবকে বিশ্রামের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সুপ্রিয়া এখন প্রস্তুত। সুপ্রিয়া এবং আমরা সবাই মিলে দেশ সামলে নেব। আপনি বিশ্রাম নিন।” বিঠল আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শরদ জানান, তিনি বিশ্রামই নিচ্ছেন। দেশ নিয়ে তাঁর কোনও চিন্তা নেই।” বিঠলের কথায়, “সাহেব মোদিকে জানান, আপাতত তিনি বিশ্রামে রয়েছেন। তাঁরা সবাই যখন আছেন, তখন দেশ নিয়ে তাঁর কোনও চিন্তা নেই।” তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল – সুপ্রিয়ার মোদি মন্ত্রিসভায় যোগের জল্পনা বেশ কয়েকমাস ধরেই চলছে। তাহলে সেই জল্পনায় কি শীঘ্রই সিলমোহর পড়তে চলেছে? এই প্রশ্নটিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে? অন্যদিকে, স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শরদ। তবে এনসিপি প্রধান বা মোদি কেউই তাঁদের কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শরদ। কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলার পর বুধবার তিনি ছাড়া পান।
আরও পড়ুন:
এদিকে, গত সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন এনসিপি নেতা (অজিত পওয়ার গোষ্ঠী) প্রফুল প্যাটেল, সুনীল তটকরে, ছগন ভুজবল, দিলীপ ওয়ালসে প্যাটেল, ধনঞ্জয় মুন্ডের মতো নেতারা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল – সেই বৈঠকে ছিলেন না প্রয়াত অজিতের স্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার এবং তাঁর পুত্র পার্থ পওয়ার। সূত্রের খবর, তাঁদের বাদ দিয়েই শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র সঙ্গে ‘সংযুক্তি’র সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে শাহের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, দুই গোষ্ঠীর জুড়ে যাওয়ার পর এনসিপি-র বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শরদ-মোদির ফোনালাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাহলে কি দুই এনসিপির মিলন এবং শরদের এনসিপি গমন কি শুধুই সময়ের অপেক্ষা? যদিও মোদি-শরদের এই ফোনালাপকে ‘সৌজন্যমূলক’ বলেই ব্যখ্যা করছেন এনসিপি (শরদ গোষ্ঠী) এবং বিজেপি শিবির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
