নামী অনলাইন বিপণি সংস্থার পার্সেল কেটে পর পর আইফোন-সহ একাধিক মোবাইল চুরি! দু’লাখ টাকার উপর মোবাইল চুরির কিনারা হল সিসিটিভিতেই। উত্তর কলকাতার টালা থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল এক কলেজ ছাত্র। সে ওই অনলাইন বিপণি সংস্থার কর্মী। কলেজের পড়ার খরচ চালাতে ওই ছাত্রটি নাইট ডিউটি করতে ঢুকেছিল ওই অনলাইন বিপণিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকার লোভে হাতাতে শুরু করে মোবাইল।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রটির বাড়ি পূর্ব কলকাতার উল্টোডাঙা এলাকায়। এই বছরই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হয়েছে কলেজে। দিনের বেলায় কলেজে পড়াশোনা করবে বলে সে অনলাইন বিপনি সংস্থায় নাইট ডিউটি করতে শুরু করে। এর আগে অন্য একটি সংস্থায় চাকরি করত সে। গত ৬ জুলাই সে যোগ দেয় নতুন কাজে। চোখের সামনে একের পর এক আইফোন ও দামী মোবাইলের প্যাকেট দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায় তার। রাতে মূলত স্টোরেই তার ডিউটি থাকত। সেই সুযোগে সে গত ৮ জুলাই একটি পার্সেল ব্লেড দিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে খোলে। ভিতর থেকে আইফোন হাতিয়ে নেয়। এরপর ৯ জুলাই ও ১০ জুলাই পর পর দু’দিন আরও দু’টি আইফোন ও দামী মোবাইল একই পদ্ধতিতে হাতিয়ে নেয় সে। পরের দিন যখন ডেলিভারির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটি সেগুলি ক্রেতার হাতে তুলে দেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে কারসাজি। দেখা যায়, প্যাকেটের মধ্যে থেকে মোবাইল উধাও।
আরও পড়ুন:
তিন ক্রেতাই পরপর তিনদিন ওই অনলাইন বিপণি সংস্থার কাছে অভিযোগ জানান। সংস্থার পক্ষ থেকে ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাতে স্টোরের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তাতেই দেখা যায়, ওই কলেজ ছাত্রটি প্যাকেট কেটে হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইল। এই ব্যাপারে টালা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। শনিবার রাতে ওই কলেজ ছাত্র কাজে আসতেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে অস্বীকার করলেও ক্রমে সে স্বীকার করে যে, তিনটি মোবাইলই চুরির পর সে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যায়। একটি আইফোন ৩৫ হাজার টাকায় সে এক বন্ধুকে বিক্রি করে। বাকি দু’টি মোবাইলের জন্য ক্রেতা খুঁজছিল সে। ওই দু’টি মোবাইলই উল্টোডাঙায় তার বাড়ির আলমারি থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। তাকে জেরা করে অন্য আইফোনের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
