অবশেষে রাজ্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু ও সংলগ্ন ফালুট ভ্রমণে পর্যটকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্থাৎ জিটিএ। এক মাসে দুই পর্যটকের মৃত্যুর পর ওই সিদ্ধান্ত। ওই বিষয়ে জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ নতুন নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সান্দাকফু ও ফালুটগামী ট্রেকার এবং ল্যান্ডরোভারে পর্যটকদের যাত্রা শুরুর আগে স্বাস্থ্যের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। যাঁদের কাছে সার্টিফিকেট থাকবে না, তাদের মানেভঞ্জন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে হবে। স্বাস্থ্যপরীক্ষায় আনফিট হলে পর্যটককে পাহাড়ের উপরের দিকে এগোতে দেওয়া হবে না।
জিটিএ-র পর্যটন বিভাগের কর্তা দাওয়া গ্যালপো শেরপা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রসঙ্গত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচু পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্তে দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা শৈলশিরায় অবস্থিত সান্দাকফু ও ফালুটে ট্রেকিং অথবা বেড়াতে গিয়ে অক্সিজেনের অভাবে অনেক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সান্দাকফুতে ট্রেকে গিয়ে মৃত্যু হয় কোচবিহারের তুফানগঞ্জের ২৬ বছরের যুবক প্রিয়তোষ অধিকারীর। তারপর ২০ অক্টোবর সান্দাকফু থেকে ফেরার পথে টুমলিংয়ে মৃত্যু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা, ৪৮ বছরের বুবাই পালের। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সান্দাকফুতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ হারান কলকাতার ভবানীপুরের বাসিন্দা এক পর্যটক। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় উত্তর ২৪ পরগনার দমদমের অশোকনগরের মুকুন্দ দাস রোডের বাসিন্দা আরও এক পর্যটকের। প্রত্যেকের মৃত্যুর পিছনে প্রাথমিকভাবে উচ্চতাজনিত সমস্যায় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো কারণ উঠে এসেছে। পরপর দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই সান্দাকফুতে ওঠার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
এরপরই জিটিএ-র তরফে কড়া পদক্ষেপ। ২৭ অক্টোবর জারি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরে ট্রেকিং এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, গাইড, পোর্টার এবং সিঙ্গালিলা ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনকে প্রতিটি পর্যটকের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি যাত্রাপথে কারও মধ্যে তীব্র মাথাব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে তাঁর উঁচুতে ওঠা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে রোগীকে নীচের দিকে নামিয়ে এনে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পর্যটকদেরও পাহাড়ি উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, নিয়মিত জল পান করা ও শরীর সুস্থ রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন করার কথা বলা হয়েছে । এছাড়াও মানেভঞ্জন থেকে ৩২ কিলোমিটার পথের যাত্রার সময় ল্যান্ডরোভার চালক ও গাইডের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিঙ্গালিলা ল্যান্ডরোভার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধান জানান, জিটিএ ভাল ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সান্দাকফু অথবা টংলু ও টুংলিঙের মাঝামাঝি এলাকায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানানো হলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। মানেভঞ্জন থেকে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করছে। গাড়িতে অক্সিজেন-সহ অন্য সরঞ্জাম থাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
