‘আপনার ত্বক এত ঝলমলে!’ কাছ থেকে দেখে চমকে গিয়েছিলেন হরলীন দেওল। ২০২৫-এর আইসিসি মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দল। মুখোমুখি বসার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর। আর সেই সময়েই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন হরলীন, ‘আপনার ত্বকচর্চার রহস্যটা জানাবেন প্লিজ?’ উত্তরের অপেক্ষায় থেকেছে গোটা ভারতবর্ষ। কিন্তু প্রত্যুত্তরে এক টুকরো হাসি ফিরিয়ে নীরব থেকেছেন তিনি। গত বছর সেপ্টেম্বরেই পঁচাত্তর পেরিয়েছেন। বয়সের ভার তবুও তাঁকে কাবু করতে পারেনি। শুধু তাই নয়। চেহারার ঔজ্জ্বল্যে তিনি টেক্কা দিতে পারেন বলিপাড়ার ষাটোর্ধ্ব দুই ‘খান’-কেও। তাঁর রূপের রহস্য নিয়ে চর্চা হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। যেখানে সলমন বা আমিরের মুখে বয়সের হালকা ছাপ পড়েছে ইতিমধ্যেই, সেখানে নরেন্দ্র মোদির ত্বক থেকে যেন ঠিকরে পড়ছে এক অদ্ভুত ‘ন্যাচারাল গ্লো’। এ কিন্তু কোনও মেকআপের কারসাজি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ম্যাজিকের নেপথ্যে রয়েছে মোদির ‘সাত্ত্বিক’ জীবনযাপন! মদ্যপান করেন না। ধূমপানের বালাও নেই। রয়েছে কেবল নিয়মানুবর্তিতা ও সংযম।

আরও পড়ুন:
‘সাত্ত্বিক’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘সত্ত্ব’ থেকে। যার সহজ মানে হল— পবিত্রতা, ভারসাম্য আর ভরপুর পজিটিভ এনার্জি। আজ থেকে হাজার বছর আগে ভগবত গীতা কিংবা ছান্দোগ্য উপনিষদও এই ডায়েটের হয়ে ওকালতি করে গিয়েছে। সোজা কথায়, যা খেলে শুধু পেট নয়, মনেরও স্বাস্থ্য অটুট থাকে, তাই-ই সাত্ত্বিক।
কী রয়েছে এই সাত্ত্বিক ডায়েটে?
একেবারেই মাটির কাছাকাছি আয়োজন। ঝুড়ি ভরতি টাটকা ফল, সবুজ আনাজ, অঙ্কুরিত ছোলা, গোটা শস্য, ডাল আর এক মুঠো বাদাম। শেষপাতে একটু খাঁটি মধু আর ঘি। সঙ্গে অবশ্যই এক গ্লাস টাটকা দুধ। তবে সাবধান! ভুলেও এই থালায় কিন্তু বাসি তরকারি, অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মশলা কিংবা প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটের খাবার ঢোকানো যাবে না। আর আমিষ তো পুরোপুরি ‘নৈব নৈব চ’।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ডায়েট মেনে চললে ওজন তো কমেই। সঙ্গে সুগার, প্রেসার বা হার্টের রোগও লেজ গুটিয়ে পালায়। প্রচুর ফাইবার আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে চামড়ায় বলিরেখা সহজে থাবা বসাতে পারে না। অন্দর থেকেই উপচে পড়ে চিরতারুণ্যের এক অদ্ভুত আভা।
তবে শুধু গপগপ করে গিললে কিন্তু মোক্ষলাভ হবে না। সাত্ত্বিক জীবনের আসল কায়দা হল— চিবিয়ে চিবিয়ে, মন দিয়ে খাবার খাওয়া। আয়ুর্বেদ বলছে, শান্ত হয়ে চিবিয়ে খেলে তবেই খাবারের আসল পুষ্টি শরীর টানতে পারে। মাঝেমধ্যে উপস করাও দরকার। সকালে এক গ্লাস ইষদুষ্ণ হলুদ জল। আর নিয়ম করে আধা ঘন্টার ধ্যান। এভাবে দিনের শুরুয়াত হলে শরীর থেকে সব টক্সিন ধুয়েমুছে সাফ হবে। ত্বকের জেল্লা আপনিই ধরা দেবে। এর জন্য খুব বেশি কসরৎ করার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
