সর্দি হলেই কমলালেবু, লেবুর জল বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট, এই অভ্যাস অনেকেরই চেনা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশ্বাস, ভিটামিন সি নাকি সর্দি সারিয়ে দেয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, সত্যিটা একটু অন্যরকম, এটি জাদুকাঠি নয়, সহায়ক এক পুষ্টি।
ভিটামিন সি কি সত্যিই সর্দি সারায়?
সর্দি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাইনোভাইরাসের কারণে হয়। ভাইরাস একবার শরীরে ঢুকলে, সেটিকে সরাসরি ধ্বংস করার ক্ষমতা ভিটামিন সি-র নেই। শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সময় নিয়ে এই সংক্রমণ কাটিয়ে ওঠে। তাই ভিটামিন সি সর্দি সারায়, এই বিশ্বাস আসলে একটি অতিরঞ্জিত ধারণা।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
তাহলে ভিটামিন সি-র ভূমিকা কী?
ভিটামিন সি সরাসরি রোগ সারাতে না পারলেও শরীরকে লড়াইয়ের শক্তি জোগায়। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালোভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা সর্দির উপসর্গ কিছুটা কমাতে পারে।
সর্দি হলে কতটা উপকার পাওয়া যায়?
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে সর্দির সময়কাল সামান্য কমতে পারে। একই সঙ্গে নাক বন্ধ, গলা খুসখুস, ক্লান্তি- এই উপসর্গগুলোর তীব্রতাও কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তবে এই উপকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

সর্দি প্রতিরোধে কি কার্যকর?
ভিটামিন সি নিয়মিত খেলে সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, এমন প্রমাণ খুব বেশি নেই। তবে যাঁরা অত্যন্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা চরম ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিরোধমূলক উপকার দেখা গেছে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই ফল পাওয়া যায় না।
প্রাকৃতিক উৎস নাকি সাপ্লিমেন্ট?
ভিটামিন সি-র সবচেয়ে ভালো উৎস ফলমূল ও শাকসবজি। কমলালেবু, লেবু, আমলকি, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম ও সবুজ শাকসবজি, এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি পায়। সাপ্লিমেন্ট অনেক সময় প্রয়োজন হতে পারে, তবে সেটি চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়াই ভালো।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি কি ক্ষতিকর?
পরিমিত মাত্রায় ভিটামিন সি নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। পেট খারাপ, ডায়রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৭৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-ই যথেষ্ট, যা সুষম খাদ্য থেকেই পাওয়া সম্ভব।
সর্দি উপশমে সঠিক উপায় কী?
সর্দি হলে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি- পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত জলপান, গরম জলে ভেপার নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ। পাশাপাশি ফল ও সবজিতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং উপসর্গ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভিটামিন সি কোনও ম্যাজিক নয়, তবে একে অবহেলা করারও সুযোগ নেই। এটি সর্দি সারায় না, কিন্তু শরীরকে লড়াই করার শক্তি দেয়। তাই ভিটামিন সি-কে চিকিৎসা নয়, বরং সহযোগী হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত। সুস্থ থাকতে একমাত্র ভরসা কোনও একটি ভিটামিন নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সচেতন জীবনযাপনই আপনার প্রকৃত রক্ষাকবচ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
