সাক্ষাৎ দুর্গা! আউশগ্রামের বিধায়ক, বর্তমানে রাজ্যের আবাসন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কলিতা মাজির জীবনগানের সুরে রয়েছে বহু ঝংকার! জীবনের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে কলিতার ছোট্ট বাড়ির আনাচে কানাচে চুঁ মারলে এখনও শোনা যায়, ‘কলি ভালো মেয়ে!’ মন্ত্রী হওয়ার পরেও পাড়ায় তিনি ঘরের মেয়ে! মন্ত্রিত্ব, প্রশাসনের কাজ সামলে কলিতা মাজি শুধু বিধায়ক নন, তিনি পুরোদস্তুর মাজি পরিবারের বড় বউ।

আরও পড়ুন:
কলিতার জীবনপথের চড়াই উতরাই আউশগ্রামের জঙ্গলাকীর্ণ পথের চেয়েও বন্ধুর! সংসার, রাজনীতি, কটুকথা, ভালোমন্দের উপাখ্যান সামলে তীব্র লড়াইয়ের ময়দানে নামতে পারেন তিনিই। কলিতার মাজি থেকে মন্ত্রী হওয়ার প্রথম পুজো এবার। মাজি পরিবার এবার পুজো দেখবে মন্ত্রী বউমার চোখ দিয়ে! কিন্তু শান্ত মেয়েটির প্রথম পুজো কেমন কাটবে (Durga Puja 2026)?
মন্ত্রী বলছেন, “আমাদের কিছুই ছিল না। আমাদের মতো মেয়েদের সম্মান দিয়েছেন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।” এই পুজো কলিতা মাজির কাছে সম্মানের! সুরক্ষার! ভালো রাখার! মন্ত্রীর কথায়, “এবার অন্য রকম পুজো। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার এসেছে। নিজের স্বাধীনতায় রাস্তাঘাটে চলতে পারব। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর নেতৃত্বে এবারের পুজো সুন্দর কাটবে। আর আগের থেকে পুজোমণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।”
মন্ত্রীর কথায়, “মা দুর্গা সন্তান নিয়ে মর্ত্যে আসছেন, আমি স্বামী, সন্তান, শাশুড়ি, ননদ, দেওর, সকলকে নিয়ে থাকতে চাই। সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসেছি। সাধারণ থাকতে চাই। যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব।” সেবার অঙ্গীকারেও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁর কমেনি। দশভুজা বলেন, “তাঁরা আমাকে ঘরের বড় বউ হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন। আমাকেও তেমন কিছু কাজ করতে হবে, যাতে আমি তাঁদের চোখের মণি হয়ে থাকতে পারি, যেন মা দুর্গার মতো দশহাতে সংসার সামলাতে পারি!”
পুজো আসে পুজো যায়! বর্ধমানের অজয় নদের তীরে বেড়ে ওঠে কাশবন। গ্রাম্য বধূর মন্ত্রী কলিতা মাজি হয়ে ওঠার কাহিনি বারবার বলে যায় লড়াইয়ের কথা! সর্বক্ষণের সঙ্গী স্বামীকে পাশে বসিয়ে কলিতা বলেন সেই লড়াইয়ের কথাই। তাঁর কথায়, “আমাদের কেউ চিনত না। আমরা পিছিয়ে পড়া মানুষ। পিছিয়ে পড়া মানুষদের তুলে ধরেছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। বুকটা গর্বে ভরে যায়। কারণ এরকম তো বহু মহিলা ছিলেন, বহু মা-বোন ছিলেন। বিগত দল যাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তাঁদের কাছেও ছিল নিশ্চয়! তাঁরা তো সম্মানটা দেননি! একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেরেছেন আমাদের মতো মহিলাদের সম্মান দিতে। তাঁর নেতৃত্বে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেই কাজটাই করছেন।”
কলিতা মাজি রাজনীতিক। ঘা খেতে খেতে আজ তিনি সব বিতর্ক পেরিয়েও কীভাবে কাজ করতে হয় জানেন! কলকাতা থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে বাড়ি। আবার কলকাতা। সব মিলিয়ে ব্যস্ততায় বদলে যাওয়া জীবনেও তিনি বলেন, “আমি রাজনীতিও করছি। কাজ করছি। আবার সংসারেও সময় দিতে হবে। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে!” মা দুর্গার কাছে ঘরের মেয়ে কলিতার আবেদন, “মা সকলকে ভালো রাখুন। পশ্চিমবঙ্গকে ভালো রাখুন। পশ্চিমবঙ্গবাসীর ভালো হোক। সকলের ভালো হোক। আমার পরিবারকে ভালো রাখুন। আমাকেও সুস্থ রাখুন, এইটুকুই চাইব।” ফের কাজে ব্যস্ত হন রাজ্যের আবাসন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
