সমাজ-অপরাধীর মনস্তত্ত্বে আতশকাচ রেখে কলকাতার বুকে জমাট রহস্য, কেমন হল করিশ্মার ‘ব্রাউন’?

সমাজ-অপরাধীর মনস্তত্ত্বে আতশকাচ রেখে কলকাতার বুকে জমাট রহস্য, কেমন হল করিশ্মার ‘ব্রাউন’?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


‘আ উওম্যান উইল গেট জাস্টিস টু অ্যানাদার’– বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা বলছে, এর থেকে একধরনের ক্যাথারসিসের জন্ম হয়। বাস্তব জীবনে যা সচরাচর ঘটে না বললেই চলে, পর্দায় সেটা ঘটতে দেখলে দর্শকের মধ্যে স্বস্তি আসে। যে সমাজে নানাধরনের অপরাধের শিকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলারাই, সেক্ষেত্রে আরেক মহিলা যদি তাকে বিচার পাইয়ে দেয়, তাতে কেবল যন্ত্রণার উপশমই হয় না, গভীর ক্ষতে কেউ যেন আলাদা করে আরামের মলম বুলিয়ে দেয়। সেকথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে ‘আনবিলিভেবল’, ‘শার্প অবজেক্টস’, ‘দিল্লি ক্রাইম’ বা ‘দাহাড়’-এর মতো বেশ কিছু ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ এবং তা জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। অভিনয় দেও পরিচালিত ‘ব্রাউন’ তার ব্যতিক্রম নয়। অভীক বড়ুয়ার লেখা ‘সিটি অফ ডেথ’ থেকে অনুপ্রাণিত সাত এপিসোডের এই নিও-নয়ার সিরিজটির কেন্দ্রে রয়েছে করিশ্মা কাপুর (Karisma Kapoor) অভিনীত ‘রিটা ব্রাউন’।

এই সিরিজে কলকাতা একটি বড় চরিত্র। থ্রিলারের মেজাজ বজায় রাখতে এই শহরের রং এখানে মূলত ধূসর। সেই প্যালেট মাথায় রেখেই অমোঘ দেশপাণ্ডের ক্যামেরা ঘুরে বেড়িয়েছে বো ব্যারাকস থেকে নিউ টাউন, ট্যাংরা থেকে উত্তরের অলিগলি, রাজকীয় বাগানবাড়ি বা মল্লিকবাজার ফুলের ঘাট।

আরও পড়ুন:

Brown series review: Karisma Kapoor shines in the series
‘ব্রাউন’ সিরিজে যিশু সেনগুপ্ত, করিশ্মা কাপুর।

শুধুমাত্র ‘হু ডান ইট’ নয়, বরং ‘হোয়াই ডান ইট’-এর ধাঁচে অপরাধী ও সমাজের মনস্তত্ত্ব তো বটেই, যারা অপরাধীদের ধাওয়া করছে, তাদের বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি ও বিগত ক্ষতের অনেক গভীরে গিয়েই এই সিরিজ বানানো। শহরে ধনী পরিবারের একমাত্র মেয়ের ভয়ানক খুনের ঘটনার কিনারা করতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে আবার ফিরিয়ে আনা হয় রিটাকে যে কিনা, নিজের স্বামী/প্রেমিকের মৃত্যু (শান) ও গর্ভপাতের পর এই বিভাগ নিজেই ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এই কেসের নিষ্পত্তি করতে তার সঙ্গী হয় অর্জুন (সূর্য শর্মা) যে কিছুদিন আগে একটি দুর্ঘটনায় হারিয়েছে তার মেয়ে ও স্ত্রীকে। এই সিরিজে কলকাতা একটি বড় চরিত্র। থ্রিলারের মেজাজ বজায় রাখতে এই শহরের রং এখানে মূলত ধূসর। সেই প্যালেট মাথায় রেখেই অমোঘ দেশপাণ্ডের ক্যামেরা ঘুরে বেড়িয়েছে বো ব্যারাকস থেকে নিউ টাউন, ট্যাংরা থেকে উত্তরের অলিগলি, রাজকীয় বাগানবাড়ি বা মল্লিকবাজার ফুলের ঘাট। বাঁচতে চাওয়ার ইচ্ছে চলে গিয়েছে, পানাসক্ত রিটার চরিত্রে করিশ্মা কাপুর মন দিয়ে অভিনয় করেছেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেছেন সূর্য শর্মা, খরাজ মুখোপাধ্যায়, পরেশ পহুজা এবং যিশু সেনগুপ্ত। শুধুমাত্র রিটার অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিকড় বোঝানোর জন্য সোনি রাজদান বা হেলেন খানের চরিত্র অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। এমনকী, মূল অপরাধীর চরিত্র গঠনের প্রতিও আরও যত্নবান হওয়া উচিত ছিল।

Brown series review: Karisma Kapoor shines in Brown
‘ব্রাউন’ সিরিজে করিশ্মা কাপুর।

ময়ূখ ঘোষ, ডিগি সিসোডিয়া ও সুনয়না কুমারীর চিত্রনাট্য অনেকটা অনিশ্চয়তা ধরে রাখতে সফল হলেও কয়েকটি এপিসোডের পর গল্প কোনদিকে এগোচ্ছে, তা ধরে ফেলতে অসুবিধে হয় না। আসলে অপরাধ, অপরাধী এবং গোয়েন্দাদের মনস্তত্ত্ব ও তাদের জীবন নিয়ে বিশদে কথা বলতে গিয়ে এই সিরিজের অনেকটাই সময় ব্যয় হয়েছে। ‘ব্রাউন’-এর সবচেয়ে ভালো দিক, ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে অপরাধের জট ছাড়াতে তাড়াহুড়ো করেননি পরিচালক। আবার এটাই সিরিজের সবচেয়ে দুর্বল দিকও। অনেকটা লম্বা হওয়ার ফলে, দর্শকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যে কোনও স্তরের মহিলাদের কী ভীষণ অত্যাচারের শিকার হতে হয়, তা দেখলে দর্শক শিউরে উঠতে বাধ্য।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *