সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান, ময়দানে গঙ্গাসাগরের ক্যাম্পে পুন‌্যার্থীদের খাবার বিলি বন্দিদের

সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান, ময়দানে গঙ্গাসাগরের ক্যাম্পে পুন‌্যার্থীদের খাবার বিলি বন্দিদের

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


তাঁরা সকলেই একাধিক অভিযোগে জেলবন্দি। অনেকে আবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তবে তাঁরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। মানুষের জন্য কাজ করেই নতুন মানুষ হতে চান তাঁরা। ময়দানে গঙ্গাসাগরে পুন‌্যার্থীদের জন্য হওয়া ক্যাম্পে খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করলেন তাঁরা।

তাঁরা বহু বছর ধরে চার দেওয়ালে বন্দি। জেলের মধ্যেই কেটে যায় দিন আর রাত। সোমবার চার দেওয়াল থেকে বেরিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হলেন কয়েকজন কারাবন্দি। ময়দানে গঙ্গাসাগরের একটি ক‌্যাম্পে গিয়ে করলেন খাবার বিতরণ। গঙ্গাসাগরে পুন‌্যার্থীদের সাহায্যে জন‌্য বসেছে ক‌্যাম্প। সেগুলির মধ্যেই একটি হচ্ছে অবধূত দেবীদাস সেবা সংস্থান। এডিজি (কারা) লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা জানান, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। গঙ্গাসাগরের যাত্রীদের সবরকমভাবে সাহায‌্য করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে কারা দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে এবার কারাবন্দিদের মধ্যে কয়েকজন সাগরযাত্রীদের সেবা করেন। তাঁদের অনুরোধে সাড়া দেয় কারা দপ্তর।

আরও পড়ুন:

একসময় হয়তো কোনও অপরাধ করেছিলেন বলে তাঁরা এখন জেলবন্দি। কিন্তু তাঁরাও সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে চান। তাঁরা যাতে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারেন, তাতেই সাহায‌্য করছে কারা দপ্তর। দমদম ও প্রেসিডেন্সি জেলের বন্দিদেরই মানুষের সেবার জন‌্য নিয়ে আসা হয়েছে। এই ব‌্যাপারে ডিআইজি (কারা) দেবাশিস চক্রবর্তী জানান, ৯ জন কারাবন্দিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। এদিন ময়দানের এই ক‌্যাম্পে উপস্থিত হন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তিনি জানান, ময়দান-সহ কলকাতায় সাগরযাত্রীদের নিরাপত্তার জন‌্য সবরকম ব‌্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

এদিকে, এদিন বিকেল থেকেই রীতিমতো অ‌্যাপ্রোন পরে ও হাতা, খুন্তি হাতে নিয়ে সাধুসন্ত ও তীর্থযাত্রীদের খাবার দিতে ব‌্যস্ত হয়ে পড়েন কারাবন্দিরা। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আনন্দের সঙ্গেই খাবার বিতরণ করেন তাঁরা। কারাবন্দিরা জানান, এতে যেমন তাঁদের পুন‌্য অর্জন হচ্ছে, তেমনই এই কাজ করে আনন্দ পাচ্ছেন। বহু বছর ধরে তাঁরা কোনও মেলা বা একসঙ্গে এত মানুষ দেখেননি। চার দেওয়ালের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয় তাঁদের। দিন, রাত কেটে যায় একই রুটিনে। সেখানে এতদিন পর মেলায় আসা ও তার সঙ্গে মানুষের সেবা করা তাঁদের অত‌্যন্ত আনন্দ দিচ্ছে বলে জানান কারাবন্দিরা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *