শাঁখের করাত অবস্থা গম্ভীরের! ‘অপছন্দের’ রোহিত-কোহলিই সিরিজ জয়ের অস্ত্র ভারতের কোচের

শাঁখের করাত অবস্থা গম্ভীরের! ‘অপছন্দের’ রোহিত-কোহলিই সিরিজ জয়ের অস্ত্র ভারতের কোচের

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


স্টাফ রিপোর্টার: শাঁখের করাত আর কাকে বলে?

বিরাট-রোহিত বনাম গম্ভীর-আগরকর, দুই ভিন্ন জুটির সম্মুখ-শৈত্য, টানাপোড়েনের খবর আর নতুন কিছু নয়। প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন খবর গজাচ্ছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু। নতুন জল্পনা-কল্পনা ছড়াচ্ছে। এই যেমন রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরি করার পর কোহলির টিমের হেড কোচের দিকে দৃকপাত না করার ভিডিও তেড়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ছয়লাপ চতুর্দিকে। সঙ্গে আনুষাঙ্গিক সন্দেহ-তা হলে মিডিয়া বলছে-লিখছে, সেটাই ঠিক? গম্ভীরের সঙ্গে বাক্যালাপ বন্ধ নাকি কোহলির? রোহিত শর্মা, তিনিও বা ক্রিকেট জনতার অনুবীক্ষণ যন্ত্র থেকে রেহাই পাচ্ছেন কোথায়? কোহলির সেঞ্চুরির পর রোহিতের উল্লাসভরে বিশেষ ‘বিশেষণ’ প্রয়োগের উদ্দেশ্য কে, তা নিয়ে কম চর্চা চলছে না। এর সঙ্গে জুড়ে নিন, নিত্যনতুন বৈঠকের খবর। বোর্ড নাকি দ্রুত বৈঠকে বসবে গম্ভীর-আগরকরের সঙ্গে। দল নির্বাচন নিয়ে ‘ধমক-ধামক’ দেবে একপ্রস্থ।

আসলে যাহা রটে, তাহার কিছুটা তো বটে। এটা ঘটনা যে, টিমের দুই মহাতারকা সিনিয়র ক্রিকেটার আর কোচের মধ্যে সত্যিই একটা বিভাজনের অদৃশ্য প্রাচীর উঠে গিয়েছে। দু’পক্ষ কেউই আর একে অন্যের সঙ্গে প্রয়োজন ব্যতীত কথাবার্তায় যায় না। এবং সে যুদ্ধে দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মন সম্পূর্ণ ‘রো-কো’র দিকে। দেশের একটা গরিষ্ঠ অংশ বিশ্বাস করে, রোহিত-কোহলির টেস্ট থেকে অকাল বিদায়ের নেপথ্যে একটাই লোকের অঙ্গুলিহেলন-গৌতম গম্ভীর! শুধু তিনি একাই নন। জাতীয় ক্রিকেট সার্কিটে যিনি গম্ভীরের ‘মানসপুত্র’ বলে পরিচিত, সেই হর্ষিত রানাকে পর্যন্ত নিত্য অস্বস্তির সামনে পড়তে হচ্ছে। এ দিনই যেমন রায়পুরে প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে হর্ষিত বলে গেলেন, “লোকে আমার দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে কী বলল, সে সব নিয়ে মাথা ঘামাই না। এত ভাবলে তো খেলতেই পারব না। তার চেয়ে খেলাটা নিয়ে ভাবি।”

এমতাবস্থায়, গম্ভীরকে একমাত্র শান্তির জল জোগাতে পারত, ফলাফল। রেজাল্ট। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, বিগত এক বছরের মধ্যে দুই সফরকারী দলের কাছে চুনকাম হওয়ার পর সে সুবিধে তো গম্ভীরের আর নেই-ই, উল্টে জাতীয় ক্ষোভের উৎসমুখে তিনি দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কাঠগড়ায় উঠছে স্পেশালিস্ট বাদ দিয়ে টেস্ট টিমে তাঁর পরের পর অলরাউন্ডার নির্বাচন, আসমুদ্রহিমাচলে গর্জন উঠছে, গম্ভীর হঠাও, ভারতীয় ক্রিকেট বাঁচাও! এমন নয় যে, গম্ভীর সম্পূর্ণ সমর্থনহারা। তাঁর দিকে পুরনো নাইট-ছাত্র রহমনুল্লাহ গুরবাজ রয়েছেন। জাক কালিস রয়েছেন। কিন্তু মুশকিল হল, এ দেশে জনমত কালিসরা ঠিক করেন না। করেন শাস্ত্রী-গাভাসকররা। করে তাঁদের বক্তব্য।

দেখতে গেলে, শ্রীযুক্ত গৌতম গম্ভীরের হাত-পা বাঁধা। টেস্ট সিরিজ হারের পর তাঁকে যদি ওয়ানডে সিরিজ জিততে হয়, রোহিত-বিরাটের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি নেই। তাই মুখবন্ধে লেখা হল, শাঁখের করাত। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহারথীকে ছাড়া ওয়ান ডে সিরিজের পথ পার করা যাবে না যে। রাঁচি ওয়ান ডে-তে বিরাট আর রোহিতই জয়ের মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছিল। আর বুধবার রায়পুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ান ডে জিতে ভারতকে যদি সিরিজ কয়রাত্ত করতে হয়, তা হলে পুনরায় সেই ‘রো-কো’ জুটির দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। কারণ, গত কয়েকটা ওয়ান ডে ম্যাচে এটুকু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, যতই নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলকে করা হোক, যতই সিনিয়র-নীতি ঝেড়ে ফেলতে চান গম্ভীররা, রোহিত-কোহলির ব্যাট ছাড়া ওয়ানডে টিমের এখনও কোনও গতি নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমাও এ দিন বলে গেলেন, “বিরাট-রোহিত থাকায় ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী।”

তাই কিছু করার নেই, গম্ভীরের কিছুই করার নেই। তিনি মানুন কিংবা না মানুন। বিশ্বাস করুন কিংবা না করুন। এটা ঘোর বাস্তব যে, ‘রো-কো’ আজও ওয়ানডে টিমের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই তাঁদের নিয়েই গুরু গম্ভীরকে আপাতত চলতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *