লোধা আইনকে ফের ‘বুড়ো আঙুল’, এসআইআর তালিকায় বয়স সত্তর, তবু অস্বীকার সিএবি সহ-সভাপতির

লোধা আইনকে ফের ‘বুড়ো আঙুল’, এসআইআর তালিকায় বয়স সত্তর, তবু অস্বীকার সিএবি সহ-সভাপতির

রাজ্য/STATE
Spread the love


দিন কয়েক আগে সত্তর বছর হয়ে যাওয়ার পরেও সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ সংস্থার পদ না ছাড়ায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল ময়দানে। এবার সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন (অনু) দত্তকে নিয়ে বড়সড় বিতর্ক বেঁধে গেল। এক্ষেত্রেও সমস‌্যা একই–সিএবি সহ-সভাপতির, বয়স!

‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর হাতে (কেউ চ‌্যালেঞ্জ করলে অনায়াসে প্রমাণ পেশ করা হবে) যে এসআইএর তালিকা এসে পৌঁছেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সিএবি সহ-সভাপতির বয়স সত্তর হয়ে গিয়েছে! লোধা আইন অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেট সংস্থার পদাধিকারীর বয়স সত্তর হয়ে গেলে তিনি সেই পদে থাকতে পারবেন না। তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। ঠিক যে ভাবে প্রাক্তন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট রজার বিনি সরে গিয়েছিলেন পদ থেকে। সেই অনুযায়ী, সিএবি সহ-সভাপতিকে পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু নীতীশরঞ্জন দত্তকে মঙ্গলবার এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি ক্রমাগত বলে গেলেন, তাঁর বয়স সত্তর কোনও ভাবে হয়নি!

আরও পড়ুন:

ঘটনা হল, সিএবি সহ-সভাপতির প‌্যান কার্ডে (তার তথ‌্যও ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর কাছে রয়েছে) তাঁর জন্মসাল ১৯৫৭। সেই অনুযায়ী তাঁর বয়স দাঁড়ায় ৬৯। কিন্তু এসআইআর তালিকা অনুপাতে সিএবি সভাপতির বয়স সত্তর! অর্থাৎ, দু’রকম ডকুমেন্টে দু’রকম বয়স! আশ্চর্যের হল, এ দিন সকালে নীতীশরঞ্জন দত্তকে ফোন করা হলে তিনি ‘দুঃসাহসিক’ ভাবে বললেন, ‘‘আমার বয়স সত্তর নয়। সত্তর হয়নি আমার।’’ তাঁকে বলা হয়, ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর হাতে সুনির্দিষ্ট তথ‌্য রয়েছে যে, তাঁর বয়স সত্তর হয়ে গিয়েছে। ‘ডকুমেন্ট’ রয়েছে। এবার জবাবে হাসতে-হাসতে নীতীশরঞ্জন বললেন, ‘‘আমার একটাই ডকুমেন্ট। আমার দু’টো ডকুমেন্ট নেই। আমার কোথাও কোনও আলাদা কিছু নেই। আর সেখানে বয়স মোটেই সত্তর নয়। আপনারা দেখে নিন। আন্দাজে বলছেন কেন?’’

সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত। ফাইল ছবি।

স্থানীয় ক্রিকেটমহল ভাবতেই পারছে না, দুই ‘ডকুমেন্টে’ দু’রকম বয়স থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে তা টানা অস্বীকার করে যেতে পারেন সিএবি সহ-সভাপতি! বলাবলি চলছে, এ তো সম্পূর্ণ তথ‌্য ‘গোপন’ করা হচ্ছে। যা সত‌্যি, তা বলার সৎ সাহস দেখাতে পারছেন না তিনি। পদের কি তা হলে এতটাই ‘মোহ’? যা ‘আঁকড়ে’ ধরে রাখতে তথ‌্য ‘লুকিয়ে’ রাখা যায়? ক্ষুব্ধ ভাবে আরও বলা হচ্ছে, সিএবি-র উচ্চ প্রশাসন কেন কিছু দেখেও দেখছে না? কেন ‘ক্রীড়া বিল’ আসার অপেক্ষা করা বসে থাকা হচ্ছে? কোথায় বলা হয়েছে যে, ক্রিকেটে দ্রুত ক্রীড়া বিল প্রয়োগ করা হবে? কেন লোধা আইন ‘সুবিধে’ অনুযায়ী মানা হচ্ছে? কেউ কেউ সঙ্গে জুড়ে দিলেন, সিএবি সহ-সভাপতি হওয়ার আগে টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান ছিলেন নীতীশ। সিএবির নিয়ম বলে, ক্রিকেটাররা রেজিস্ট্রেশনের সময় যে সমস্ত সার্টিফিকেট জমা করেন, তার সঙ্গে সংস্থায় যে ফর্ম জমা করা হয়, দুই তথ‌্য পুঙ্খানুপুঙ্খ মিলতে হয়। কোনও রকম গরমিল থাকলে, সেই প্লেয়ারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। প্রশ্ন হল, টুর্নামেন্ট কমিটির পূর্বতন প্রধান কী করে তা হলে দুই ‌‘ডকুমেন্টে’ দুই জন্ম তারিখ নিয়ে চলতে পারেন? কী করে সহ-সভাপতি হয়ে যেতে পারেন? ক্রিকেটারদের জন‌্য এক রকম নিয়ম, আর ক্রিকেট কর্তাদের জন‌্য আর এক রকম–এ জিনিস কেউ কখনও দেখেছে না শুনেছে?

কী দাঁড়াল? বিগত কয়েক দিন ধরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিজের চেয়ারে বহাল তবিয়তে বসে থাকা সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষকে নিয়ে বড়সড় ঝঞ্ঝাটে জড়িয়েছে সিএবি। যা এখনও চলছে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখে দেওয়া যায়, সিএবি সহ-সভাপতির ‘জোড়া বয়স’ বিতর্ক বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সমস‌্যা বাড়াবে ছাড়া কমাবে না।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *