লাল সন্ত্রাস ছেড়ে মূল স্রোতে মাও দম্পতি! বউমার হাতের রান্না খাওয়ার অপেক্ষায় শাশুড়ি

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


ছেলের বিয়ে হয়েছে ১৬ বছর আগে। বউমা নন্দীগ্রামের মেয়ে। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বুড়িঝোরের জঙ্গলে ২০১০ সালে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। ঘরের বউমাকে নিয়ে এমন সব নানান কথা পুলিশের কাছে দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছিলেন পানসরি মান্ডি। এবার পুলিশের কাছে সেই শোনা কথাই নিজের চোখে দেখবেন শাশুড়ি মা। তাই তো পানসরি মান্ডি জানিয়েছেন, “বউমার হাতের রান্না খাওয়ার অপেক্ষায় আমরা রয়েছি। এই কয়েকটা বছরে পুলিশের কাছে কত যে বউমার কথা শুনেছি। এবার চোখে দেখবো।”

বুধবার বিকালে বাঁকুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সিপিআই (মাওবাদী)-র বাংলা, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন ওরফে মহাদেব ওরফে সুনীল যখন তাঁর স্ত্রী মিতা সাহু ওরফে নয়নতারা ওরফে ঝুম্পা ওরফে পরি ওরফে নতুনকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করছেন। এরপরই ওই মাও কমান্ডার শচীনের মা পানসরি দেবী তাঁর বউমার হাতের রান্না খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই বার্তা হয়তো ঝাড়খন্ড পুলিশের হাত ধরে নন্দীগ্রামের মেয়ে বউমা মিতার কাছে পৌঁছে যাবে। এমনই আশা পানসরি দেবীর। তবে শচীনের বাবা সনাতন মান্ডি যেন ওই বিয়েতে খানিকটা অসন্তুষ্ট। ছেলের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের খবর শুনে চোখ ছলছল হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি বলেন, “ছেলে যে বিয়ে করেছে তা কত লোককে খাইয়েছে? ওই বিয়েতে কি বাবা-মা উপস্থিত ছিল? কোন আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিল? বিয়ে করেছে আর কী করা যায়! বউমাকে আমরা মেনে নেবো।” বউদি ঘরে আসবেন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন শচিনের ভাই ছুটুলাল মান্ডিও। তাঁর কথায়, “দাদা বাড়ি আসবে। সঙ্গে বউদি থাকবে। এ যে কত আনন্দের বলে বোঝাতে পারবো না।”

আরও পড়ুন:

আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পর মাও কমান্ডার শচীন ও তাঁর স্ত্রী মিতা। নিজস্ব চিত্র।

পুরুলিয়ার বরাবাজার-বান্দোয়ান সড়ক দিয়ে মধুপুর। সেখান থেকে সিরকা। তারপর ঝাড়খণ্ডের পথ ধরে পূর্ব সিংভূম জেলার জোরসা। সেখান থেকে টুঙ্গুবুরু হয়ে পটমদা থানার ঝুঁঝকা। সেখানেই বাড়ি শচীনের। সেই ২০০৬ সালে মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে পটমদা হাইস্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ঘর ছেড়েছিলেন রামপ্রসাদ। স্কোয়াডে গিয়ে তাঁর নাম হয়েছিল শচীন। সেই যে জঙ্গলে যান। আর ঘরে ফেরেননি তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁদের ঘর ভেঙে দিলে কমান্ডার হয়ে ওঠা শচীন সেই ঘরে পা রাখেননি। বরং তাঁদের স্কোয়াডের নেতা আকাশ ও রাহুল ২০১৫-১৬ সালের সেই ভাঙা ঘর দেখে গিয়েছিলেন। তারপরে রাহুল ওরফে রঞ্জিত পাল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু শচীন পার্টির আদর্শে বুক চিতিয়ে লড়ে গিয়েছেন জঙ্গলেই।

নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মাতঙ্গিনী মহিলা সমিতির সদস্য মিতা ২০০৭ সালেই সিপিআই (মাওবাদী)-তে যোগ দেন। তারপর তাঁর ঠিকানা হয় ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের ঘাটশিলা। সেখান থেকে ডামপাড়ার স্কোয়াড গঠন করা হলে তিনি ওই স্কোয়াডের কমান্ডার হন। এরপর একাধিক স্কোয়াডে কাজ করলেও লালগড় আন্দোলনের সময় শচীন ও মিতার ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি স্কোয়াডে সাক্ষাৎ হয়। পরবর্তীকালে মিতা পূর্ব সিংভূম জোনাল কমিটির সদস্য হয়েছিলেন। তারপরেই তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *