- বিদ্যুৎ রাজগুরু
রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত তিনধারিয়ার শান্তা ভবন এখন মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজের অধীনে। সেখানে নেই কবিগুরুর কোনও স্মৃতি স্মারক। নেই কবিগুরুর কোনও মূর্তি। শান্তা ভবনে উদযাপনও হয় না রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী। যেখানে বসে কবিগুরু লিখেছিলেন গীতাঞ্জলির ছয়টি কবিতা৷ সেখানে গেলে এখন পাহাড়ের নির্জনতায় শুধু শোনা যায় ইতিহাসের ফিসফিসানি। অবিলম্বে মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজকে বিকল্প জায়গা দিয়ে এখানে রবীন্দ্র গবেষণাগার গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন অনেক রবীন্দ্রপ্রেমী।
শিওখোলা, ধোপিঘোলা ও পাগলাঝোরা– এই তিনটি ধারায় মিলেমিশে তিনধারিয়া৷ শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব ২২ কিমি৷ হিলকার্ট রোড ধরে তিনধারিয়া থেকে আরও কিছুটা এগোলেই মেইন রোডের পাশে রয়েছে বর্তমান শান্তা ভবনের ফলক৷ আর সেখান থেকে ৩০০ ফুট উচ্চতায় সেলিম হিলস চা বাগানের ঢালু উপত্যকায় স্মৃতিবিজড়িত বাংলোটির অবস্থান৷ এক পাশে যোগমায়া চা বাগান, লেজিপুর ও নীচে সিবোটর চা বাগান৷
বহু স্মৃতিজড়িত শান্তা ভবনে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে এখন ওল্ড এজ হোম। সংস্থার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলছে সেখানে৷ মাদার টেরেজার সংস্থার সন্ন্যাসিনীরা অনেক সংস্কারের মধ্যে দিয়ে সেখানে গড়ে তুলেছেন আরও বেশ কিছু ঘর, বারান্দা। কর্তব্যরত সিস্টারদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরাই কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত ঘর ও বারান্দাটি দেখিয়ে দেন। একেবারে পাহাড়ের টঙে কবির থাকবার ঘরটির অবস্থান। তবে সেখানে রবীন্দ্রনাথের কোনও স্মৃতিচিহ্ন বা অবয়ব দেখলাম না৷ সিস্টাররা বলছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এই চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় বসেই লিখতেন।’
রবীন্দ্র জীবনীকারদের লেখায় জানা যায়, শান্তা ভবনে বসে গীতাঞ্জলীর ছয়টি কবিতা ছাড়াও তিনি লিখেছিলেন ছয়টি গান এবং চিঠি৷ ১৯১০ ও ১৯১৭ সালে দুইবার তিনধারিয়ায় এসেছিলেন কবি৷ সেখানে তিনি প্রমথ চৌধুরীর দাদা আশুতোষ চৌধুরীর বাংলোতে উঠতেন৷ তিনধারিয়ার তৎকালীন লোকো সুপার কারবি সাহেব চৌধুরী পরিবার থেকে এই বাংলোটি কিনে নেন৷ পরবর্তীকালে শান্তা লামার কাছে বিক্রি করেন৷
আশুতোষ চৌধুরীর হাউস-তিনধারিয়া থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গৌরাঙ্গ গোপাল ঘোষকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আমরা সম্প্রতি তিনধারিয়ায় আসিয়াছি৷ ইহা দার্জিলিংয়ের নিচেকার একটি পাহাড় তিন হাজার ফিট উচ্চ৷ এখানে গ্রীষ্ম নাই, শীতও অতি অল্প৷ দার্জিলিংয়ের মতো জনতা নাই বলিয়াই এখানে আশ্রয় লইয়াছি৷ …সমস্ত দিন খোলা বারান্দায় বসিয়া পাহাড়ের ঘন শ্যামল অরণ্যের উপর মেঘ বৃষ্টি ও রৌদ্রের লীলা দেখিতেছি…।’
এখনও তিনধারিয়ার অনেক জায়গা থেকে শিলিগুড়ি শহর দেখা যায়। শিলিগুড়ির কিছু অংশ থেকে যেমন দেখা যায় তিনধারিয়া। এর মাঝে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে।
(লেখক শিক্ষক। লিউসিপাকুড়ি নজরুল শতবার্ষিকী বিদ্যালয়)
The submit রবীন্দ্রস্মৃতি মুছেই যাচ্ছে তিনধারিয়ায় appeared first on Uttarbanga Sambad.
