ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি

ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি

ব্লগ/BLOG
Spread the love


দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে লক্ষ্য থাকে জীবন বাঁচানো। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা শ্বাসনািল স্বাভাবিক রাখা, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রাণরক্ষাকারী অঙ্গগুলিকে সুরক্ষিত রাখার দিকে মনযোগ দেন। কিন্তু জীবন রক্ষার পর আসে মুখমণ্ডলের অবস্থা, যা একজন মানুষের পরিচয় বহন করে। সেই মুখমণ্ডল পুনরুদ্ধাের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনরা। আদৌ কি পুরোটা ঠিক করা যায় – আলোচনায় ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডাঃ সৌভিক সরকার

ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি এমন একটি বিশেষায়িত শাখা, যা মুখ, চোয়াল ও মুখগহ্বরের আঘাত, রোগ ও ত্রুটি নিরাময়ে কাজ করে। জটিল ফেসিয়াল ফ্র্যাকচার থেকে শুরু করে গুরুতর সফট টিস্যু ইনজুরি– সবক্ষেত্রেই ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনরা নিখুঁত সার্জিক্যাল দক্ষতা ও চিকিৎসা জ্ঞান প্রয়োগ করে কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য দুটিই পুনরুদ্ধার করেন।

মুখমণ্ডলঃ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়

মুখমণ্ডল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি শ্বাস নেওয়া, খাওয়া, কথা বলা, দেখা এবং আবেগ প্রকাশের কেন্দ্র। এই অংশে আঘাতের ফলে প্রভাব পড়তে পারে শ্বাসনািল, দৃষ্টিশক্তি ও চিবানোর ক্ষমতায়, কথা বলার দক্ষতায়, মুখের সামঞ্জস্য ও আত্মবিশ্বােস।

একটি ভাঙা চোয়াল স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া ব্যাহত করতে পারে। গালের হাড় ভেঙে গেলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে স্থায়ী বিকৃতি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও মানসিক আঘাতের কারণ হতে পারে।

ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনরা মুখমণ্ডলের সূক্ষ্ম অ্যানাটমি সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁদের কাজ শুধুমাত্র সেলাই করা নয়, তাঁরা টাইটেনিয়াম প্লেট ও স্ক্রু দিয়ে ভাঙা হাড় সঠিক অবস্থানে স্থাপন করেন, চূর্ণবিচূর্ণ গঠন পুনর্গঠন করেন, স্নায়ুর ক্ষতি মেরামত করেন এবং দাঁতের গঠন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা মুখমণ্ডলের আঘাত

ভারতের মতো দেশে সড়ক দুর্ঘটনা মুখমণ্ডলীয় আঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে হেলমেট ছাড়া দুই-চাকার গাড়ি চালানোর ফলে দেখা যায় ম্যান্ডিবল (নীচের চোয়াল) ফ্র্যাকচার, মিডফেস ফ্র্যাকচার, অরবিটাল ইনজুরি এবং দাঁত সম্পূর্ণ উপড়ে যাওয়া। এই ধরনের আঘাতে দ্রুত এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেরিতে বা ভুল চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি বিকৃতি ব্যথা ও চিবানোর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল আন্তর্জাতিক ওরাল এবং ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন দিবস। এই বিশেষ দিনে এই ক্ষেত্রের বিশেজ্ঞদের অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব, মুখমণ্ডলের আঘাতে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত ওরাল চেকআপের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর যে হাসি আবার ফিরিয়ে আনা হয়, তার পেছনে থাকে একজন দক্ষ ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনের নীরব পরিশ্রম।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *