‘মেয়েরা একটু সফল হলেই কটাক্ষ করা হয়’, ‘বীরাঙ্গনা ২’ মুক্তির পরই অকপট ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’ সন্দীপ্তা

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


শুভ বিজয়া। পুজো কেমন কাটালেন?

শুভেচ্ছা তোমাকেও। পুজো খুব ভালো কেটেছে। প্রচুর কাজ করেছি। ক্যাম্পেন, পরিক্রমা করেছি। মা-বাবাকে সময় দিয়েছি। সৌম্যকে সময় দিয়েছি। বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছি। পুজোর মধ্যেই ‘হইচই’তে ‘বীরাঙ্গনা টু’ রিলিজ করেছে।

আরও পড়ুন:

ব্যালান্স করতে আপনি কতটা দক্ষ?

খুব দক্ষ (হাসি)। দ্বিতীয়ত, যদি ব্যালান্স করতে না পারি তা হলে নিজে খুব আপসেট হয়ে যাই। আমি কাজ, মা-বাবা, সৌম্য, বন্ধুরা সবাইকে প্রায়োরিটি দিই। কিছু না কিছু ভাবে সময় বের করে ঠিক সবার সঙ্গে দেখা করি, পার্টি করি, খেতে যাই। ‘দুর্গা’, ‘টাপুর টুপুর’-এর মতো হিট ধারাবাহিকগুলো করার সময় আমি পড়াশোনা করছিলাম। তখন কিন্তু আমার কাজ এবং পড়াশোনার দুটোই ভালো ভাবে ব্যালান্স করেছি। সায়েন্স কলেজে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলাম। এই সব দিক ব্যালেন্স করা আমার নেচারেই আছে।

‘হইচই’-এর সঙ্গে ‘নেটফ্লিক্স’-এর সংযুক্তির ফলে ‘বীরাঙ্গনা’ হিন্দি, তামিল, তেলুগু ভাষায় ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’ রূপে দেখা যাচ্ছে। ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। সারা দেশে এই ব্যাপ্তি কতটা ইতিবাচক?

‘হইচই’তে ‘বীরাঙ্গনা টু’ পুজোর মধ্যে বিগেস্ট রিলিজ। খুব ভালো প্রতিক্রিয়া। ‘নেটফ্লিক্স’-এর সঙ্গে ‘হইচই’-এর সংযুক্তিকরণ উপরি পাওনা। এই পার্টনারশিপের ফলে যখন বীরাঙ্গনা ওয়ান ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’ নামে ‘নেটফ্লিক্স’-এ এসেছে তখন থেকেই ট্রেন্ড করছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সেটা নম্বর ওয়ানে ট্রেন্ড করছে। এটা আমাদের পুরো টিমের কাছে ভীষণ বড় প্রাপ্তি। আমরা ‘বীরাঙ্গনা টু’ নিয়েই খুব টেনশনে ছিলাম। যে কোনও সিরিজের প্রথম ভাগ সফল হলে তার দ্বিতীয় ভাগ যখন আসে তখন টেনশন থাকে। প্রত‌্যাশা বেশি থাকে। বাংলায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, বাংলা ওটিটি কিন্তু অন্য লেভেলে চলে গিয়েছে। অসাধারণ সব কাজ হচ্ছে।

ধারাবাহিক ভাবে নারীকেন্দ্রিক সিরিজের প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি কী?

আমি প্রথমেই বলব এক্ষেত্রে আমার মেগা সিরিয়ালের এত বছরের সফল কেরিয়ার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি যতগুলো মেগা করেছি প্রত্যেকটাই কেন্দ্রচরিত্র এবং প্রত্যেকটাই খুব শক্তিশালী চরিত্র। সেক্ষেত্রে আমার একটা ইমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ২০০৮-এর ‘দুর্গা’ থেকে ২০২৬-এর ‘বীরাঙ্গনা টু’ সবটাই দর্শকের ভালোবাসা।

অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি ক্লিনিক‌্যাল সাইকোলজিস্ট। বর্তমান সময়ের ইঁদুর দৌড়ে মনের যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি?

আমাদের অবশ্যই মনের যত্ন নেওয়া উচিত। সব কিছু কিন্তু আমাদের মনের সঙ্গে যুক্ত। আমরা সারাক্ষণ ফোন দেখি। সেখানে যে সবটাই পজিটিভ রয়েছে এমন নয়। প্রচুর নেগেটিভ জিনিসও রয়েছে। ফোনের ক্ষেত্রে আমাদের ক্লিন আপের অপশন আছে। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে আমরা রিফ্রেশ বাটন ইউজ করতাম। আমরা যদি মনটাকেও এইভাবে দেখি তা হলে মনকেও আমাদের যত্ন করতে হবে। মনের মধ্যে নেগেটিভিটি বেশি জমতে থাকলে শরীরের জন্যও সেটা ক্ষতিকর। আজকাল চারদিকে নেগেটিভিটি, হাজার সমস্যা। তার মধ্যেও পজিটিভিটিগুলো খুঁজে নিতে হবে।

‘ম্য়াডাম ইন্সপেক্টর’ সন্দীপ্তা

বর্তমান সময়ও অনেকেই মনের অসুখ গোপন করেন। এ ক্ষেত্রে আপনার কী পরামর্শ?

সব সময় বলি, সমস‌্যা হলে মনোবিদের কাছে যান। আর এখন সোশাল মিডিয়ার যুগে সবাই নিজেকে সাইকোলজিস্ট, থেরাপিস্ট ভাবতে শুরু করেছে। নিজের উপর প্রয়োগ করছে। অপরকে সাজেশন দিচ্ছে। এর প্রভাব মারাত্মক। মানুষের ধারণা নেই যে এতে আদতে ঠিক কতটা ক্ষতি হচ্ছে। উপসর্গ এক হলেও ব্যক্তিবিশেষে কিন্তু সমস্যাগুলো আলাদা হয়। এখন আবার একটা জিনিস বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে বাচ্চাদের মধ্যে, একটু মন খারাপ হলেই তারা ‘সুপার ডিপ্রেসড’ হয়ে যায়। আসলে তারা যা শুনছে এটা তারই প্রতিফলন। আমরা যেরকম ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা নরমালাইজ করেছি সেরকম সাইকোলজিস্ট-এর কাছে যাওয়াটা নরমালাইজ করতে হবে।

ছোটপর্দায় দুর্গা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। সেই ইমেজ ভেঙে বেরতে কতটা বেগ পেতে হয়েছিল?

আমি এই দিক থেকে খুব লাকি যে ‘দুর্গা’-র পরে ‘টাপুর টুপুর’-এর মতো একটা চরিত্রে আমাকে স্নেহাশিসদা আমাকে ভেবেছেন। না হলে হয়তো আমি টাইপকাস্ট হয়ে যেতাম। তখন মুম্বই থেকে আমার অনেক বড় বড় অফার এসেছিল। কিন্তু আমি পড়াশোনার জন্য সেগুলো করতে পারিনি। মানুষ আজও আমাকে দুর্গা হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন। তবে ‘টাপুর টুপুর’ আমাকে সেই ইমেজ ব্রেক করতে সাহায্য করেছিল।

ছোট পর্দায় ফেরার কোনও পরিকল্পনা আছে?

২০২৬-এ আমি তিনটে প্রোজেক্ট ছেড়েছি। একটা কাজ আমি করতে চাইনি। আর দুটোতে ডেট ইস্যু ছিল। ধারাবাহিকে একদম ফিরতে চাই না সেটাও নয়। মেগা সিরিয়ালে একসঙ্গে অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছনো যায়। ভালো গল্প পেলে, সময় সুযোগ হলে অবশ্যই ধারাবাহিকে ফিরব।

সন্দীপ্তা সেন

কোনও বিতর্ক নেই আপনার। এই ক্লিন ইমেজ রাখেন কী করে?

আমি খুব শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং ভীষণ ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড। শো-অফ করতে পারি না। আমি যেরকম আমি সেটাই দেখাই।

কিন্তু শোনা যায় ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে শো-অফ মাস্ট…

এই বিষয়টা বুঝি না। আমাদের খুব ছোট ইন্ডাস্ট্রি। কী শো অফ করার আছে! আমি কি দশটা বাউন্সার নিয়ে ঘুরব! একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে এগুলো খুবই বোকা বোকা লাগে আমার। কাজের জন্য যতটুকু দরকার, যে লাইফস্টাইলে আমি কমফোর্টেবল আমি তাতেই খুশি।

ইন্ডাস্ট্রিতে শোনা যায় আপনার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার স্বামী সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের অবদান থাকে। এই নেতিবাচক মন্তব্য কতটা প্রভাব ফেলে?

বহুবার এর ব্যাখ্যা দিয়েছি। যাঁরা এই কথাগুলো বলেন তাঁরা হয়তো জানেন না যখন আমি ‘দুর্গা’, ‘টাপুর টুপুর’, ‘প্রতিদান’-এর মতো একাধিক হিট সিরিয়াল করেছি। তখন সৌম্য মুখোপাধ্যায় আমার জীবনে ছিলেন না। ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে, লোগোকা কাম হ্যায় কহেনা’। কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা এই কথাগুলো বলে তাঁদের ইগো স্যাটিসফাই করেন। এটা প্রথম নয়। এর আগেও আমি এই ধরনের কথা শুনেছি। যখন চ্যানেলে একের পর এক হিট সিরিয়াল দিয়েছি তখন শুনেছি আমার নাকি চ্যানেলের শেয়ার রয়েছে। আমার ফোকাস মন দিয়ে ভালো ভালো কাজ করা। আর মেয়েরা একটু সফল হলে এই ধরনের কটাক্ষ তো থাকবেই।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *