‘মুসলিমদের অন্ধকারে রাখতে চায় বামপন্থীদের একাংশ’, কলকাতায় মুক্ত মনে মৌলবাদ-বিরোধিতা তসলিমার

‘মুসলিমদের অন্ধকারে রাখতে চায় বামপন্থীদের একাংশ’, কলকাতায় মুক্ত মনে মৌলবাদ-বিরোধিতা তসলিমার

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


দু’দশক পর কলকাতায় ফিরেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ উনিশ বছর পর মহানগরীর বুকে পা রেখে আবেগী তসলিমা। অগাস্ট একাধারে তাঁর জন্মমাস, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের মাস। হারিয়ে যাওয়া জীবনের একটি অধ্যায়ের কাছে ফেরা প্রমাণ করে দিল অন্যায় দীর্ঘস্থায়ীহতে পারে, চিরস্থায়ী নয়। কলকাতায় প্রত্যাবর্তন তসলিমার ব্যক্তিগত আনন্দ নয় বরং মুক্তচিন্তা, মানুষের ভালোবাসার জয়। শনিবার, রবীন্দ্রসদনের অনুষ্ঠান থেকে বামপন্থীদের বিঁধলেন লেখিকা।

সুর নরম করে অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় বললেন, “প্রগতিশীল বামপন্থীদের হাতিয়ার অপবাদ, নির্বাসন। আমি সবরকম মৌলবাদের বিরুদ্ধে। ইসলামের সমালোচনা মানেই মুসলিম বিদ্বেষ নয়। মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য সংস্কারকের মুখ বন্ধ করা। ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বেশি সরব। কারণ আমি ছোটবেলা থেকে এই পরিস্থিতি দেখেছি।”

আরও পড়ুন:

দু’দশক পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন

মঞ্চ থেকেই মুসলিম সমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা দিলেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর কথায়, “মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তাধারার মানুষের সংখ্যা বাড়ুক। মানবিকতার সংখ্যা বাড়ুক। আমরা যাঁরা সমালোচনা করি তা ধ্বংসের জন্য নয়, উন্নতির জন্য। ক্যালেন্ডার এগলেই সমাজ আধুনিক হয় না। রাষ্ট্র চিন্তাকেও আধুনিক হতে হয়। হাতে প্রযুক্তি আর উঁচু ভবন তৈরি হলেই সমাজ আধুনিক হয় না। শিক্ষা নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল দেশের প্রগতি।”

‘মুসলিমদের অন্ধকারে রাখতে চায় বামপন্থীদের একাংশ’, কলকাতায় মুক্ত মনে মৌলবাদ-বিরোধিতা তসলিমার
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

মনের ভিতর জমে ছিল অভিমানের মেঘ। কলকাতায় ফিরে সেই অভিমানের বরফ আজ গলে জল! যন্ত্রণামিশ্রিত কণ্ঠে বললেন, “মনে অভিমান থাকলেও দুহাত ভরে রয়েছে ভালোবাসা। যে শহর থেকে চলে যেতে হয়েছিল সেখানেই ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছি। ঘর কেড়ে নিয়েছে কিন্তু, ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নিতে পারেনি। মানচিত্র নয়, মানুষের ভালোবাসাই আমার দেশ। আমার মন থেকে দেশকে বের করতে পারেনি। কী ক্ষতি করেছি যে চলে যেতে হয়েছিল? আজ আমি প্রশ্ন করতে আসিনি। বলতে এসেছি, ফিরে এসেছি। কলকাতায়, একটা বাক্য বলতে ১৯ বছর সময় লাগল। আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *