বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া নিয়ে কত রকম স্বপ্ন থাকে ফুটবলারদের। কারও পূর্ণ হয়, কারও পূর্ণ হয় না। কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা হয়তো আজ সব পেয়েছির দেশের মানুষ। তাঁর দেশ আটকে দিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে। বলা ভালো, তাঁর হাতেই বন্দি হয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডা। ম্যাচের পর তাঁর চোখে জল। কেনই বা হবে না? ৪০ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অথচ এই গোলকিপারের আসল নাম ‘ভোজিনহা’ নয়ই। মা-বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া গোলকিপার এদিন বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
১৯৮৬ সালে কেপ ভার্দেতে জন্ম জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াজের। যাকে আজ বিশ্ব চিনল ভোজিনহা নামে। বর্তমানে খেলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব চাভেসে। কেপ ভার্দের হয়ে খেলেছেন ৯১টি ম্যাচ। ২০১২ সালে সই করেন অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসোতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে মহা সমস্যা। সেখানে ‘জোসিমার’ নামের আরেক গোলকিপার ছিলেন। তাই জার্সিতে ওই নাম ব্যবহার করা যাবে না। অতএব ব্যবহার করতে হল ডাকনাম ‘ভোজিনহা।’ ইংরেজিতে যার অর্থ ‘গলার স্বর’। যে নামটা রেখেছিলেন তাঁর দাদু-ঠাকুমা।
নামটা তাই বড্ড স্পেশাল। আসলে ছোটবেলায় মা-বাবার সাহচর্য পাননি। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে। মা কাজের জন্য বাইরে থাকতেন। তাই দাদু-ঠাকুমাই তাঁকে বড় করে তুলেছেন। সেই নাম আজ বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমীর মুখে মুখে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে ৭টি সেভ করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলকিপার হিসেবে ক্লিনশিট রাখার নজির এখন তাঁর নামে। কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড, কখনও বা ওয়ারজাবালের শট, সব আটকে গিয়েছিল তাঁর হাতে। একটা সময় ম্যাচটা পরিণত হয়েছিল স্পেন বনাম ভোজিনহাতে।
After the sport draw, the 40 years outdated Vozinha is crying. pic.twitter.com/TsTl9ly2Md
— CR7 Fan⚽ (@CR7fando) June 15, 2026
ম্যাচের পর স্টেডিয়াম জুড়ে শোনা গেল তাঁর নামে স্লোগান। চোখে জল ভোজিনহার। তবে তা আনন্দাশ্রু। বিশ্বকাপের মতো বিরাট মঞ্চে তারা থামিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডাকে। যুগ যুগ ধরে গল্প চলবে ভোজিনহা ও তাঁর ব্রিগেডের বীরত্বের।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর

