সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: আগামী শনিবার, ১ নভেম্বর থেকেই বাংলায় শুরু হতে চলেছে এসআইআর। এমনটাই খবর জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে। ২০২৬ সালে বাংলা-সহ নির্বাচন আসন্ন পাঁচ রাজ্যের পাশাপাশি আরও গোটা দশেক রাজ্যে চালু হতে পারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। কমিশন সূত্রের খবর, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ফুল বেঞ্চের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত বেশ কিছু নির্দেশিকা তারা পাঠিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিতে। আর তারপর থেকেই তৎপরতা বেড়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে।
দিল্লির অশোক রোডের নির্বাচন সদন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরুতে ১ নভেম্বর থেকে বাংলা-সহ নির্বাচন আসন্ন অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি ও আরও ১০ রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাবে। তারপরই ডাকা হবে সর্বদলীয় বৈঠক। যা রাজ্যস্তরের পাশাপাশি হবে জেলাস্তরেও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরা যেমন বৈঠক করবেন রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে, তেমনই জেলাস্তরেও জেলাশাসকদের করতে হবে এই ধরনের বৈঠক। দুই স্তরের বৈঠকের যাবতীয় রিপোর্ট পাঠাতে হবে দিল্লিতে। প্রতিনিয়ত যা খতিয়ে দেখা হবে। এর জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে নতুন টিমও।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর। শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকছে সিইও দপ্তর। ইতিমধ্যেই শো কোজ করা এক হাজারের বেশি বিএলও, বিএলও-দের অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য তাঁরা। প্রত্যেক সরকারী কর্মীদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কমিশনের কাজে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তার উল্লেখও করা হয়েছে।
এসআইআর-এর কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে কোনও রকমের যুক্তি, অজুহাত, ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। এসআইআর পদ্ধতির ট্রেনিংয়ের জন্য বিএলও-দের সাতদিনের সময় দেওয়া হবে। প্রত্যেক জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন যুগ্ম নির্বাচনী আধিকারিক পর্যায়ের আধিকারিকরা। এই মর্মে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই খবর কমিশন সূত্রে।
এসআইআর-এর কাজে লিপ্ত কর্মী, আধিকারিকদের শুধু কড়া বার্তাই নয়, একাধিক আশ্বাসও দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কর্মরত কাউকে অন্য কাজ করতে হবে না। তাঁদের বদলি করা যাবে না। জানা গিয়েছে, বেশ কিছু রাজ্যের বিএলও-দের তরফে কমিশনে বেশ কিছু অভাব-অভিযোগ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল, তাঁদের উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয়। নিজেদের পেশার কাজের পাশাপাশি নির্বাচনের কাজ করতে গিয়ে তাঁদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। সেই সমস্যাগুলি দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
