মাদকমিশ্রিত চকোলেট খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল! তদন্তে পুলিশ

মাদকমিশ্রিত চকোলেট খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল! তদন্তে পুলিশ

রাজ্য/STATE
Spread the love


স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন। তার আগে তাকে চকোলেট মেশানো মাদক খাইয়েছিল তারই এক সহপাঠী ছাত্রী। ওই নাবালিকা নির্যাতিতার স্কুলের বান্ধবী ও অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর ওই নাবালিকা কিশোরী ভেঙে পড়ে। অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে ওই ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও নাবালিকাকে দেখিয়ে ক্রমাগত ব্ল‌্যাকমেল করার কারণে সে মুখ খুলতে পারেনি। সম্প্রতি পরিবার ঘটনাটি জানতে পারে। ওই নাবালিকার মা মেয়ের ওই বান্ধবী ও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে দক্ষিণ শহরতলির সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। একাধিক সিসিটিভির ফুটেজের মাধ‌্যমে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে এই ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতা নাবালিকার এক স্কুলের বান্ধবীর মাধ‌্যমেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। স্কুল ছুটির পর তাদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার জন‌্য ওই ছাত্রীকে লোভ দেখানো হয়। তাতে রাজি হয়ে যায় কিশোরী। সেইমতো ছক সাজিয়ে অভিযুক্ত যুবক একটি গাড়ি নিয়ে আসে। গাড়ি চালাচ্ছিল আরও এক যুবক। স্কুল থেকে কিছুটা দূরে পার্ক করে রাখা ছিল গাড়িটি। নির্যাতিতা নাবালিকাকে নিয়ে তার সহপাঠী বান্ধবী গাড়ির কাছে যায়। ওই নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার সময় নির্যাতিতা ছাত্রীকে একটি চকোলেট দেওয়া হয়। ওই চকোলেটে মাদক মেশানো ছিল বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন:

মাদক খাইয়ে ওই নাবালিকাকে গাড়ি করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় অচেতন অবস্থায় ওই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ওই যৌন নির্যাতন। ওই ধর্ষণ তথা যৌন নির্যাতনের ভিডিও তুলে রাখা হয়। গভীর রাতে তাকে গাড়ি করে বাড়ির সামনে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, পরের দিন থেকে ওই নির্যাতিতার সহপাঠী তাকে ওই ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে ব্ল‌্যাকমেল করতে শুরু করে। কাউকে ওই ঘটনার কথা জানালে সেই ভিডিও সোশ‌্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

স্কুলের ভিতরে ও বাইরে ক্রমাগত ওই হুমকি ও যৌন নির্যাতনের কারণে ওই ছাত্রী রীতিমতো আতঙ্কে ভুগতে শুরু করে। বাড়ির কারও সঙ্গে ভাল করে কথাও বলত না। সারাক্ষণ ভয়ে থাকত। মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি করলেও মুখ খুলত না। ভাল করে পড়াশোনাও করতে পারছিল না সে। এতে তার অভিভাবকদের সন্দেহ হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করায় কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো বিষয়টি তাঁদের জানায়। এরপরই সরশুনা থানায় অভিভাবকরা অভিযোগ দায়ের করেন। নির্যাতিতার ওই অভিযুক্ত বান্ধবীও নাবালিকা। পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলে মূল অভিযুক্তর সন্ধান চালাচ্ছে। ওই স্কুলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গাড়িটিও শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *