‘ভেনেজুয়েলা আমরা চালাব’, তেলভাণ্ডারের দখল নিয়ে ‘দেশ সংস্কারের’ বার্তা ট্রাম্পের

‘ভেনেজুয়েলা আমরা চালাব’, তেলভাণ্ডারের দখল নিয়ে ‘দেশ সংস্কারের’ বার্তা ট্রাম্পের

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোররাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার বুকে শুধু সামরিক আঘাত নয়, রাজনীতির দড়িতেও জোরালো টান দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের ঘোষণা, ভেনেজুয়েলার শাসনভার চালাবে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, সেখানকার তৈল ভান্ডার নিজেদের অধিকারে নেওয়ার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার তেল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় আসবে এবং সেখানকার ভেঙে পড়া জ্বালানি ব্যবস্থার মেরামত করবে।

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর ভারতীয় সময় অনুযায়ী শনিবার রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে সাফল্যের বিজয়ধ্বজা ওড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজুয়েলার শাসনভার কার্যত নিজেদের কুক্ষিগত করার ঘোষণা করে ট্রাম্প বার্তা, ”যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত ভাবে কাউকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসানোর সুযোগ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরাই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করব। আপাতত আমরা অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। গত দীর্ঘ সময় ধরে এখানে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনও সেই অবস্থাই রয়েছে। তাই আমরাই দেশ চালাব।”

একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভাণ্ডারের সংস্কারের বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ”আমাদের দেশের বৃহত্তম তৈলসংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় আসবে এবং কোটি কোটি ডলার ব্যয় করবে। তারা এখানকার (ভেনেজুয়েলার) ভেঙে পড়া জ্বালানি ব্যবস্থার সংস্কার করবে এবং ওই দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।” ট্রাম্পের কথায়, ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে দেশের শাসনভার হস্তান্তর করতে সময় লাগবে। যদিও তা কতদিন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি তিনি। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা যদি আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে কড়া হাতে তার দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি প্রয়োজন পড়ে ভেনেজুয়েলার উপর দ্বিতীয় বড় হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না আমেরিকা।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, “গতকাল আমেরিকা যা অর্জন করেছে, বিশ্বের কোনও দেশ তা পারেনি। সত্যি বলতে, অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সমস্ত সামরিক ক্ষমতা মাটিতে মিশে যায়। আমাদের সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে মাদুরোকে পাকড়াও করে। ভয়ঙ্কর অভিযান ছিল এটি।’’ ট্রাম্প আরও জানান, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে মার্কিন নৌসেনার জাহাজেই রয়েছে। তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাদুরোকে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “ও একজন মাদক সন্ত্রাসী। ওকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারপরও আমেরিকার বিরুদ্ধে কাজ করে গিয়েছে। এখন আমরা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব।”

পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার শাসনভার শান্তির নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর হাতে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা কখনই ঘটবে না, কারণ ভেনেজুয়েলায় তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা নেই। সেখানকার মানুষ ওঁকে খুব একটা সম্মান করে না।’

উল্লেখ্য, হামলার পরই আমেরিকার বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলা অভিযোগ তুলেছিল মাদক বিরোধী অভিযান আসলে অজুহাত মাত্র, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈল ভান্ডার। যেখানে মজুত রয়েছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল খনিজ তেল যা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। ট্রাম্পের বার্তার পর ওয়াকিবহাল মহলের মত, মাদক-সন্ত্রাস আসলে লোক দেখানো, বাস্তবে ক্ষমতার বলে ভেনেজুয়েলা ও তার খনিজ সম্পদের দখল নিল আগ্রাসী আমেরিকা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *