জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলা। কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০। জখম ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি। পুরোদমে চলছে উদ্ধারকাজ। আরও বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের আড়ালে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। মৃতের সংখ্যা শেষপর্যন্ত লক্ষেও পৌঁছতে পারে সেই আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এরই মধ্যে অভিযোগ, সরকার উদ্ধারকাজে কাঙ্ক্ষিত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে পারছে না।
ধ্বংস্তূপের আড়ালে থাকা দেহ উদ্ধার করতে হাত লাগিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরাও। সর্বত্র হাহাকার আর শোকের গাঢ় ছায়া! ভেঙে পড়া ইমারতের আশপাশে প্রিয়জনকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ। এক মা বিবিসিকে বলছেন, ”আমার মেয়েদের আমি আমার সঙ্গে নিয়ে যেতে এসেছি।” জানাচ্ছেস তাঁদের মেয়েদের বয়স ২২ ও ২৩। ধ্বংসস্তূপের যত্রতত্র উঁকি দিচ্ছেন অসহায় দৃষ্টিতে। আরেক তরুণী একটু দূরেই বিড়বিড় করছেন, ”আমার হৃদয় বলছে আমার ভাই নিশ্চয়ই বেঁচে আছে।” এভাবেই অসহায় মানুষের আকুতি, চোখের জলে ধ্বংসস্তূপের নানা করুণ ছবি ফুটে উঠছে ভেনেজুয়েলায়।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দু’টি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। ঠিক তার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে আরও একটি শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এটির উৎসস্থলও ওই একই জায়গায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। এক মিনিটেরও কম সময়ে এমন জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যায় চারপাশ। ভূমিকম্পের মুহূর্তের এবং তারপরের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে (যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। সেগুলিতে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী কারাকাসে বহু ভবন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন মানুষজন। কোথাও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ধ্বংসস্তূপের জেরে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
