ভিন্ন লড়াই

ভিন্ন লড়াই

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করার তোড়জোড়ের পাশাপাশি এবার কমিশনের বিরুদ্ধে শুধু মামলা দায়ের নয়, সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালও করলেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী পার্টি-ইন পার্সন হিসেবে এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন।

শীর্ষ আদালতে তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি রাজ্যের মানুষের জন্য এসেছেন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বেছে বেছে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং বাংলায় যে এসআইআর চলছে তা শুধুমাত্র নাম কাটার লক্ষ্যে। তৃণমূল নেত্রী সাধারণত সাংবাদিক বৈঠক বা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার কোনও সুযোগই হাতছাড়া করেন না।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগের বন্যা বইয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। বিজেপি এবং অন্য তৃণমূল বিরোধী দলগুলি তাঁর এই আচরণকে নাটক বলে কটাক্ষ করছে ঠিকই। কিন্তু এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক পদক্ষেপ বিজেপি ও অন্য তৃণমূল বিরোধীদের বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার শামিল কার্যত।

এসআইআর-এর বিরোধিতায় শেষ ধাপে পৌঁছে তাঁর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তাঁকে ইমপিচ করার জন্য দলকে সংসদে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ ও কমিশনের বিরুদ্ধে নিজে মামলা দায়ের করে নিজেই সওয়াল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এক ইঞ্চি জমি ছাড় দিতে নারাজ। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এসআইআর-এ স্থগিতাদেশ দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী সেরকম আর্জিও জানাননি। ফলে ভোটার তালিকায় নাম, ধাম, বাবার নামে গণ্ডগোল ইত্যাদিতে মানুষের হয়রানি এখনই বন্ধ হয়ে যাবে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

তবে এতে মুখ্যমন্ত্রী হয়রানির প্রতিবাদে সামনে থেকে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ভাবমূর্তিটা তুলে ধরতে সফলও হয়েছেন। শেষমেশ মমতা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে জিতবেন কি না, সেটা সময় বলবে। কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর এসআইআর-কে মোক্ষম অস্ত্র বানিয়ে ফেলার প্রভাব জনমানসে পড়তে বাধ্য। মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষ আদালতে অভিযোগ করেছেন, যে কাজ করতে অন্তত ২ বছর লাগে, তা দু’মাসের মধ্যে করতে গিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি আবেদন জানানোর পর আদালত নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়ে এসআইআর-এ পদক্ষেপগুলি জানাতে বলেছে। অন্যদিকে, এসআইআর-এর জন্য রাজ্য সরকার কতজন অফিসার দিতে পারবে, তা জানানোর নির্দেশও দিয়েছে। কমিশনের আধিকারিকদের সহানুভূতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এসআইআর আগাগোড়াই বিতর্ককে সঙ্গী করে চলছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথমে নথি নিয়ে বিবাদ, তারপর নাম বাদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে মানুষকে শুনানিতে ডাকায় বিতর্কের জল আরও গড়িয়েছে। যার দায় যে নির্বাচন কমিশনেরই, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভূতুড়ে নাম থাকলে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ হয় না ঠিকই। কিন্তু এই ভূত তাড়ানোর প্রক্রিয়া হওয়া উচিত নিয়ম মেনে। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপালে গণ্ডগোল বাধতে বাধ্য।

অতীতে ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্রও কখনও পুরোপুরি নির্ভুল হয়নি। সেই কাজ করতে ব্যর্থ হলে সেই দায় কমিশনেরই। অথচ এসআইআর-এ মানুষের মনে নিজ ভূমে পরবাসী হয়ে পড়ার আতঙ্ক দানা বাঁধছে। কোনও ভারতীয় নাগরিকের মনে ভোট দিতে যাওয়ার আগেই যদি ভয় ধরে, তালিকায় নাম না থাকলে যদি তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়, তাহলে তা চিন্তারই কথা।

অন্যদিকে, এক কোটি নাম বাদ যাবে বলে বিজেপি লাগাতার প্রচার রাজ্যজুড়ে অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি করেছে। দলীয় স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল রাজনীতির ঘুঁটি সাজিয়েছেন সত্যি। কিন্তু হয়রানিটা তৃণমূল নেত্রীর পদক্ষেপকে সিলমোহর দিয়ে দিচ্ছে।

The submit ভিন্ন লড়াই appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *