‘ভারত সবার’, দেরাদুনে ‘বর্ণবিদ্বেষে’র শিকার হয়ে ছাত্রমৃত্যুর পর ঐক্যের বার্তা ভাগবতের, তুললেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গও

‘ভারত সবার’, দেরাদুনে ‘বর্ণবিদ্বেষে’র শিকার হয়ে ছাত্রমৃত্যুর পর ঐক্যের বার্তা ভাগবতের, তুললেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গও

রাজ্য/STATE
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে দেরাদুনে মৃত্যু হয়েছে ত্রিপুরায় পড়ুয়া অ্যাঞ্জেল চাকমার। গণপিটুনির পাশাপাশি তাঁকে ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। ঐক্যের বার্তা দিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “ভারত সবার। ভেদাভেদের জায়গা নেই।”

বুধবার ছত্তিশগড়ের সোনপারি গ্রামে একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন ভাগবত। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জাতি, সম্পদ, ভাষা বা অঞ্চল দিয়ে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভারত সবার।” তিনি আরও বলেন, “সম্প্রীতি গড়ার প্রথম পদক্ষেপ হল মন থেকে বিচ্ছিন্নতার মনোভাব এবং বৈষম্যের অনুভূতি দূর করা এবং সকলকে সমান বলে বিবেচনা করা। দেশ সবার এবং এই চেতনাই হল প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতি।” জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধা এবং ধর্মীয় স্থানগুলিতে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের পক্ষেও সোচ্চার হয়েছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, “ভেদাভেদ ভুলে ধর্মীয় স্থানগুলিকে প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।” তাঁর মতে, এধরনের পদক্ষেপ সংঘাতের উৎস নয়, বরং ঐক্যের নির্মাণ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের কথাও এদিন উল্লেখ করেন ভাগবত। একইসঙ্গে গোটা সমস্যার তিনি গঠনমূলক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। আরএসএস প্রধান বলেন, “আমরা হিন্দুরা যেখানেই সমস্যা দেখি, তা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কিত হোক বা দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত, আমরা আলোচনা করি। সবসময়ে যে তা লাভজনক ফল দেয় তা নয়। কিন্তু আমাদের সর্বদা সমাধানগুলি নিয়ে চিন্তা করা উচিত।”

ত্রিপুরার বাসিন্দা বছর চব্বিশের অ্যাঞ্জেল দেরাদুনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন। জানা গিয়েছে, গত ৯ ডিসেম্বর তিনি ও তাঁর দাদা মাইকেল চাকমা কিছু সামগ্রী কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে কয়েকজন মদ্যপ যুবক তাঁদের বর্ণবিদ্বষী মন্তব্য করতে থাকেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা তাঁকে, চিনা নাগরিক বলে দাগিয়ে দেন। প্রতিবাদ করতেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন অ্যাঞ্জেল। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাকমা ভাইদের উপর আচমকা হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি লোহার রড দিয়েও তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অ্যাঞ্জেল। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি চিনা নই, ভারতের নাগরিক।” 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *