ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস, তেত্রিশেও গতিতে তরুণদের টেক্কা! হ্যারি কেনের ফিটনেস রহস্য কী?

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর ২০২৬ সালে ফের এক ইংরেজ ফুটবলারের হাতে উঠল ব্যালন ডি’অর। ইতিহাস গড়লেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। গত মরশুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩টি গোল করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছন কেন।

কিন্তু শুধু গোল বা ট্রফি নয়, ৩৩ বছর বয়সেও নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনায় এই তারকা। কেনের দাবি, তাঁর দৌড়ের গতি এখন কেরিয়ারের সেরা পর্যায়ে। বয়স বাড়লেও কীভাবে এমন ফিটনেস ধরে রাখছেন তিনি? নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে বিশেষ নজর।

আরও পড়ুন:

এক সাক্ষাৎকারে কেন জানিয়েছেন, তিরিশ পেরলেই খেলোয়াড়দের গতি কমে যায়, এমন ধারণা তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। তাঁর কথায়, এখন তাঁর দৌড়ের গতি আগের চেয়ে অনেকে বেশি। কেরিয়ারে এর আগে কখনও এত দ্রুত গতিতে তিনি পৌঁছননি।

আরও পড়ুন:

তবে এই ফিটনেসের পিছনে শুধু কঠোর অনুশীলন নয়। বরং কখন শরীরচর্চা দরকার, আর কখন বিশ্রাম নেওয়া জরুরি, সেই ভারসাম্য বুঝে চলাকেই বিশেষ গুরুত্ব দেন কেন। ঘন ঘন ম্যাচ খেলার সূচিতে পরের খেলায় নামার মতো শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

harry kane 2026 ballon dor fitness secrets training recovery sleep
ব্যালন ডি’অর হাতে হ্যারি কেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণে পরিকল্পনা জরুরি
কেনের প্রশিক্ষণসূচিতে রয়েছে দ্রুতগতিতে দৌড়নো, পায়ের পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, দ্রুত গতি বাড়ানো ও কমানোর অনুশীলন এবং জিমে শরীরের উপরের অংশের পেশি মজবুত করা। সপ্তাহের কোন দিনে কী ধরনের অনুশীলন করবেন, তা নির্ভর করে ম্যাচের সময়সূচির উপর।

সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তুলনামূলক বেশি দ্রুতগতির দৌড় ও শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করেন তিনি। ম্যাচের দিন এগিয়ে এলে অনুশীলনের চাপ কমিয়ে কৌশল ও প্রস্তুতিতে বেশি মন দেন। অর্থাৎ, প্রতিদিন শরীরকে একই মাত্রায় পরিশ্রম করানোর বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ধরন বদলান এই ফুটবলার।

ঘুমই রিকভারির বড় ভরসা
কঠোর অনুশীলনের পর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত ঘুমের উপর বিশেষ জোর দেন কেন। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিকভারির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বিশ্রামের দিকেও সমান নজর রাখা প্রয়োজন।

কেন জানিয়েছেন, ঘুমকে অনেক সময় ফিটনেসের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম না নিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

harry kane 2026 ballon dor fitness secrets training recovery sleep
গতির ঝড়। ছবি: সংগৃহীত

আইস বাথের উপর ভরসা
কেনের রিকভারি রুটিনে রয়েছে আইস বাথ। অনুশীলন ও ম্যাচের ধকল সামলাতে শরীরকে পুনরুদ্ধারের সময় দেওয়া তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু আইস বাথ নয়, ঘুম এবং অন্যান্য রিকভারি পদ্ধতির সমন্বয়েই নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

তবে আইস বাথ সকলের জন্য সমান উপযোগী নয়। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়।

স্ট্রেচিং ও মোবিলিটি
কেনের রুটিনে রয়েছে স্ট্রেচিং, মোবিলিটি এক্সারসাইজ এবং বিভিন্ন ধরনের থেরাপি। শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখা এবং ম্যাচের পরবর্তী ধকল সামলে পরের খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠার উদ্দেশ্যেই এই রুটিন অনুসরণ করেন তিনি।

তবে পেশাদার ফুটবলারের প্রশিক্ষণসূচি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন শরীরচর্চার থেকে আলাদা। তাই তাঁর রুটিনের সব পদ্ধতি অনুকরণ না করে নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম ও বিশ্রামের পরিকল্পনা করাই ভালো।

harry kane 2026 ballon dor fitness secrets training recovery sleep
অনুশীলনে কেন। ছবি: সংগৃহীত

ছ’বছর ধরে বিশেষ থেরাপি
কেন জানিয়েছেন, তাঁর রিকভারি রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইলেকট্রিক্যাল নিউরোফাংশনাল আকুপাংচার। স্নায়ুতন্ত্রকে লক্ষ্য করে করা এই বিশেষ পদ্ধতি প্রায় ছ’বছর ধরে ব্যবহার করছেন তিনি। নিজের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় এই থেরাপিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কেন।

তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রিকভারি ব্যবস্থার অংশ। এই পদ্ধতি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই রকম কার্যকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য নেই। তাই কোনও বিশেষ থেরাপি শুরু করার আগে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বয়স নয়, শরীরকে বোঝাই আসল
ব্যালন ডি’অর জয় হ্যারি কেনের কেরিয়ারের বড় স্বীকৃতি। পাশাপাশি তাঁর ফিটনেসের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন সেরাটা দিতে শুধু কঠোর অনুশীলন যথেষ্ট নয়। শরীরের সংকেত বুঝে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার পরিবর্তন ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক রিকভারি ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *