বিয়ে হওয়া মানেই মা-বোন-ঘর-সংসার ছেড়ে অন্যের সংসারে পাকাপাকি থেকে যাওয়া। তাই বিয়ের কথা ভাবলেই বুক হু-হু করে ওঠে মেয়েদের। যে বোনেদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলো করে বড় হওয়া, তাদের ছেড়ে হুট করে দূরে যাওয়া যায় কি? উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) তিন অভিন্নহৃদয় বোনের অবস্থা এমনটাই। একে অপরকে ছেড়ে একদিনও থাকার কথা কল্পনা করতে পারেন না তাঁরা। আর তাই স্বেচ্ছাতেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন একই পুরুষকে!

আরও পড়ুন:
অমরোহার হাসানপুর এলাকার ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিন বোন—সরোজ (২০), সাবিত্রী (১৯) ও সন্তোষ (১৮)। পেশায় তাঁরা সোশাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সেই সূত্রেই জনৈক বিকাশ নামের ছেলেটির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁদের। গত ছয় মাস ধরেই বিকাশের সঙ্গে মিলিত প্রয়াসে ভিডিও-রিল তৈরি করছিলেন তাঁরা। বিকাশ বেশিরভাগ সময় ক্যামেরা ধরতে সাহায্য করতেন। কিছু ভিডিওতে আবার মেয়ে তিনটির স্বামীর ভূমিকাতেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আর সেভাবেই বেড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা।
কিন্তু প্রেম-বিয়ের প্রশ্ন উঠতেই জটিলতা বাড়ে। তিন বোনই দাবী করেন, পরস্পরকে ছেড়ে থাকা অসম্ভব! তাঁদের পরিবার থেকে যখন তিনজনের আলাদা আলাদা জায়গায় বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাঁরা এতটাই ভেঙে পড়েন যে আত্মহননের ভাবনা পর্যন্ত বিবেচনা করে দেখেন!
আর এই সমস্যার সমাধান করতে, আজীবন একসঙ্গে থাকার উদ্দেশে, বিকাশের গলাতেই মালা পরান তিন বোনে! স্থানীয় চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। উল্লেখ্য, এ সময় দুই পরিবারের কোনও সদস্যই উপস্থিত ছিল না। সমস্ত ঘটনাই ভিডিও করে আপলোড করা হয় তাঁদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে। তবে তা ভাইরাল হতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জবাবে তিন বোন আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছেন। ফলে অন্য কারও আপত্তির সুযোগ নেই।

যদিও এই বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী জানিয়েছেন, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী একজন হিন্দু পুরুষ একাধিক নারীকে বৈধভাবে বিয়ে করতে পারে না। তাই এই বিয়ের কোনও আইনি স্বীকৃতি নেই এবং এটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
