সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার পর প্রথমবার পুরুষদের ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে হেলায় হারিয়ে পহেলগাঁও জঙ্গিহানায় নিহতদের পরিবারের প্রতি ভারতীয় দলের তরফ থেকে সমবেদনা জানান সূর্যকুমার। জয় উৎসর্গ করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনেও টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কের মুখে একই কথার অনুরণন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় বোর্ড আর কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে রয়েছেন তাঁরা। আর কী বলেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার?
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “কয়েকটা কথা বলতে চাই। এর থেকে ভালো সুযোগ হয়তো পাব না। আমার মনে হয় স্পোর্টসমানশিপের ঊর্ধ্বেও কিছু জিনিস আছে। আমরা পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিবারের পাশে আছি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীরও পাশে রয়েছি। আমরা এখানে আসার সময়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, খেলতে আসছি। এর যোগ্য জবাব দিতে চেয়েছিলাম। মাঠেই এর যথাযথ জবাব দিয়েছি। বিসিসিআই এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত।”
রবিবার ছিল সূর্যকুমারের জন্মদিন। বিশেষ সেই দিনে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। দলের স্পিনারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “প্রথম কথা হল, বিশেষ এই দিনে জেতার অনুভূতিই আলাদা। এই জয় দেশবাসীকে দেওয়া রিটার্ন গিফট। স্পিনাররা অসাধারণ ছিল। ওরা ১২ ওভার বল করেছে। ওরা কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন মাঠে দেখা গিয়েছে। তিন স্পিনারকে এভাবে বোলিং করতে দেখে ভালো লেগেছে। হার্দিক আর বুমরাহ ওদের সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে। আমরা বোলিং ইউনিট হিসাবে ভালো খেলেছি।”
রবিবার ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কুলদীপ যাদব। তাঁর সম্পর্কে সূর্যকুমার বলেন, “অসাধারণ ছিল কুলদীপ। ও টেস্ট দলেও ছিল। খেলার সুযোগ পায়নি। ফিটনেস নিয়ে খুবই খেটেছে। টানা দু’টি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ভারতের জয়ে বড় অবদান রেখেছে।” অন্যদিকে, ম্যাচের পর টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ বলেন, “দল হিসাবে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি আমরা। অপারেশন সিঁদুরের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য গর্বিত।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ম্যাচে রণংদেহি মেজাজে পাওয়া গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে বহু কিছু নিয়েই চর্চা জারি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অদৃশ্য বয়কটের পথে হেঁটেছেন সূর্যকুমার যাদবরা। টসের সময় পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারত অধিনায়ক। ম্যাচ জয়ের পরেও একই ছবি। তখনও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়নি ভারতীয় ক্রিকেটারদের।
