বিলুপ্তির পথে পাহাড়ের পর্যটকদের পছন্দের ল্যান্ড রোভার! মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা চালকদের

বিলুপ্তির পথে পাহাড়ের পর্যটকদের পছন্দের ল্যান্ড রোভার! মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা চালকদের

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: হারিয়ে যাবে মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু ও ফালুট যাওয়ার ঐতিহ্যবাহী গাড়ি ‘ল্যান্ড রোভার ১৯৫৪’! ক্রমশ সংখ্যা কমতে থাকায় এমনই শঙ্কায় ভুগছেন ওই দুর্গম পথের চালকেরা। হিমালয়ান রেলওয়ের আদলে ভিনটেজ পরিবহণের ঐতিহ্য রক্ষায় তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।

গত পাঁচ বছরে ল্যান্ড রোভারের সংখ্যা ৫০ থেকে কমে ৩৯টিতে দাঁড়িয়েছে। গাড়িগুলির বেশিরভাগ ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে তৈরি। কয়েক দশক ধরে গাড়িগুলি মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু ও ফালুটের মধ্যে পর্যটক এবং ট্রেকারদের বহন করে। সংখ্যা কমে যাওয়ায় গাড়ি মালিকরা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের আদলে ভিনটেজ পরিবহনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ল্যান্ড রোভার মালিক সমিতির কো-অর্ডিনেটর অনিল তামাং বলেন, “যেসব গাড়ি সান্দাকফু এবং ফালুটে পর্যটকদের নিয়ে যেতে কঠিন পথ অতিক্রম করে আসছে সেগুলো সংরক্ষণ যোগ্য।”

মানেভঞ্জন থেকে ৩ হাজার ৬৩৬ মিটার উঁচু সান্দাকফু পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার পথের মধ্যে গাড়িগুলি ১ হাজার ৭০৮ মিটার উঁচুতে উঠে যায়। সান্দাকফু থেকে ৩ হাজার ৬০০ মিটার উঁচু ফালুট পর্যন্ত পরবর্তী ২১ কিলোমিটার পথ পাথরের উপর দিয়ে ল্যান্ড রোভারগুলি প্রায় ৭০ বছর ধরে চলাচল করছে। ল্যান্ড রোভার গাড়ি মালিক সুরজ গুরুং বলেন, “গাড়ি বিকল হলেই মুশকিল। যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। অনেকে গাড়ি ফেলে রেখেছেন। এভাবে চলতে থাকলে ল্যান্ড রোভার চিরতরে হারিয়ে যাবে।” অথচ এই ভিনটেজ ল্যান্ড রোভারের আকর্ষণে পর্যটকদের একাংশ শৈল শহরে পৌঁছে সান্দাকফু ভ্রমণে যান। ১৯৫৪-১৯৫৭ সালের মডেলের গাড়িগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৯টি এখনও সচল। মানেভঞ্জন থেকে ‘আইকনিক ট্যাক্সি’ হিসেবে কাজ করে। সেগুলোতে সান্দাকফু ভ্রমণে গিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি উপভোগ করেন পর্যটকরা। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে প্রায় ৩২ কিলোমিটার খাড়া পাথুরে পথে ভ্রমণ করতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যে ডুবে থাকায় পর্যটকরা সেই ক্লান্তি বুঝতে পারেন না। প্রশ্ন উঠেছে সেই সুখানুভূতি কি চিরতরে হারাতে চলেছে!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *