বিয়ের বয়স মাত্র ৯ মাস, অনলাইন গেমে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে অবসাদে আত্মঘাতী যুবক!

বিয়ের বয়স মাত্র ৯ মাস, অনলাইন গেমে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে অবসাদে আত্মঘাতী যুবক!

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


দেব গোস্বামী, বোলপুর: মাত্র ৯ মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে মোবাইলে অনলাইনে গেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। সেই নেশা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে দিনের পর দিন খেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করে ফেলেছিলেন। এর জেরেই আর্থিক ক্ষতি। ঋণের বোঝার মানসিক চাপ আর নিতে পারেননি সেই যুবক। আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক! আজ মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা ঘটে পাড়ুই থানার কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালাগ্রামে।

জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুমন ঘোষ (২৫)। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েক মাস ধরেই মোবাইলে মারণ গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন সুমন। খেলার মাধ্যমেই টাকার লেনদেনও চলত। খেলায় আসক্ত হয়ে বাড়ির প্রায় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি নষ্ট করে ফেলেন। বন্ধুদের কাছেও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হন। বাবার ব্যবসায়ে জমানো টাকা থেকে শুরু করে পরিবারের আয়ের অর্থ-সহ লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট হয়েছে মোবাইল গেমেই। ফলে বিপুল টাকা দেনা হয়ে যায় বাজারেও। আর সেই পাওনা টাকার চাপ সহ্য না করতে পেরেই বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুমন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিন সকালে সুমনের বাবা কাজে কারণে বাইরে ছিলেন। স্ত্রী পাশেই বাপের বাড়ি এবং মা স্নান করতে যাওয়া সময়ে আত্মঘাতী হন তিনি। পরে ঘরে ঢুকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান সুমনের মা। চিৎকার করে প্রতিবেশিদের ডাকেন। এরপর সকলে তড়িঘড়ি সুমনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্রই চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত যুবকের পরিবারের দাবি,” নাওয়া-খাওয়া ভুলে সব সময় কেমন যেন ঘোরে থাকতো পরিবারের একমাত্র ছেলে। মাত্র ৯ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। রাত জেগে মোবাইলে গেম খেলতো আর দিনের বেলায় প্রায় সময় ঘুমোতো। পারিবারিক ইটভাটা ও ট্রাক্টরের ব্যবসা থাকলেও কোনও কাজকর্মে মন ছিল না সুমনের। মোবাইল গেমের তীব্র আসক্তি থেকেই বাজারে টাকা ধার হওয়ায় অকালে প্রাণ গেল ছেলের। আর এই খেলার মধ্যে দিয়েই পরিবারের লক্ষ লক্ষ টাকাও নষ্ট হয়েছে।”

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মোবাইলের গেম থেকেই অবসাদে জড়ান ওই যুবক। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা জানতে পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পাড়ুই থানার পুলিশ। মৃত যুবকের বাবা প্রসাদ ঘোষ জানান,”শান্ত স্বভাবের একমাত্র সন্তান যে এইভাবে কোনও কিছু না জানিয়ে চলে যাবে বুঝতেই পারিনি। ভাষা হারিয়েছি।” এদিন বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর কংকালীতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সুমনের। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পাড়ুই কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালাগ্রামে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *