গোবিন্দ রায়-দিশা আলম: কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রণেন্দ্রনারায়ণ রায়ের পুত্র মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়কে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মার! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিধাননগর পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর আহত মনুজেন্দ্র নারায়ণ। তিনি নিজেও একজন পেশায় আইনজীবী। এরপরেই বিধাননগর পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রাক্তন বিচারপতির পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই সংক্রান্ত মামলা শুনানি হবে। আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী জানান, পুলিশের অতিসক্রিতার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (বিধাননগর) অনীশ সরকার জানিয়েছেন, ”অভিযোগ পেলে নিশ্চিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ওই পরিবারকে অভিযোগ জানানোর কথা বলা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ঘটনায় এক পুলিশ কর্মীর মাথা ফেটেছে। কীভাবে এই ঘটনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বুধবার রাতে ঘটনা ঘটে সল্টলেক এক ব্লকে। ঘটনার সূত্রপাত গাড়ি রাখা নিয়ে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিচারপতির ছেলের গাড়ি তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাখা ছিল। ভিড়ের কারণেই অন্য একটি গলিতে পার্কিং করে রাখা হয়। রাতে মনুজেন্দ্র নারায়ণ রায়ের পুত্র সৌরীন্দ্রনারায়ণ রায় সেই গাড়ি বাড়ির সামনে আনতে যান। অভিযোগ, সেই সময় দু’জন পুলিশকর্মী হঠাৎ করেই তাঁর উপর চড়াও হয়। করা হয় মারধর। কোনও রকমে ঘটনার কথা সৌরীন্দ্র তাঁর বাবাকে জানান। ঘটনার কথা শুনেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মী মনুজেন্দ্রনারায়ণের উপরেও চড়াও হয়। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই দুই পুলিশ কর্মী সাদা পোশাকে ছিলেন বলে দাবি আইনজীবী পরিবারের। জানা গিয়েছে, পুলিশের মারে ঘাড়ের হাড় ভেঙেছে মনুজেন্দ্র নারায়ণের। রাতেই বেসরকারি একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
ওই আইনজীবীর দাদা নীলেন্দ্র নারায়ণ রায় জানিয়েছেন, ”তাঁর ভাইয়ের বাড়ির সামনে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় পিছনের গলিতে গাড়িটা রাখা হয়েছিল। গাড়ির চাপ কমতেই ভাই মনুজেন্দ্রের ছেলে সৌরীন্দ্র নারায়ণকে গাড়িটা বাড়ির সামনে নিয়ে আসতে বলে। গাড়িটা আনতে গেলে সে সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী ওর পরিচয় সহ নানা জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। এরপরেই চলে মারধর।”
ঘটনার পরেই এদিন সকালে কলকাতা হাইকোর্টর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী। আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ীর প্রশ্ন, কেন পুলিশ এভাবে প্রাক্তন বিচারপতির পুত্র এবং নাতীকে মারধর করল। একই সঙ্গে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবিও জানিয়েছেন আইনজীবী।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন
