বিমানে আচমকা অ্যাজমা অ্যাটাক! মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট উপরের বিপদ এড়ান এই উপায়ে

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


মাটির হাজার হাজার ফুট উপরে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কয়েক মিনিটেই তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। অ্যাজমা থাকলে তাই বিমানে ওঠার আগে যেমন প্রস্তুতি জরুরি, তেমনই আচমকা অ্যাটাক শুরু হলে কোন পদক্ষেপটি আগে নিতে হবে, তা জানা থাকাও দরকার।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে অ্যাজমার তীব্র আক্রমণের পর এক ভারতীয় যাত্রীর মৃত্যু সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুর থেকে সিডনিগামী বিমানে প্রায় আট ঘণ্টার যাত্রার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫৮ বছরের ওই ব্যক্তি। তাঁর তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাক হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:

পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কেবিন ক্রু ও সহযাত্রীরা। বিমানে থাকা এক চিকিৎসক ও তিন নার্সও তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক কেবিন ক্রু সিপিআর-ও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই যাত্রীটিকে বাঁচানো যায়নি। 

আরও পড়ুন:

ঘটনাটি বিরল হলেও অ্যাজমা আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে এতে। বিমানের মধ্যে আচমকা অ্যাজমা অ্যাটাক হলে কী করবেন?

flight asthma attack breathlessness emergency what to do mid air
কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে বিমানে ওঠার আগে সজাগ থাকুন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমেই চিনুন অ্যাটাকের লক্ষণ
হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে চাপ, কাশি এবং শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ অ্যাজমা অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু শ্বাসকষ্ট দ্রুত বাড়তে থাকা, একটানা কথা বলতে না পারা বা নিয়মিত রিলিভার ইনহেলার নেওয়ার পরও স্বস্তি না মিললেও পরিস্থিতি গুরুতর অবস্থার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ইনহেলার থাকুক হাতের নাগালে
অ্যাটাকের উপসর্গ শুরু হলে চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার করুন। সালবিউটামল রিলিভার ইনহেলার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এনএইচএস-এর নির্দেশিকায় ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড অন্তর একটি করে পাফ, সর্বোচ্চ ১০টি পাফ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্পেসার থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইনহেলারের ধরন ও ব্যক্তির চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহারের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

শ্বাসকষ্ট লুকিয়ে রাখবেন না
বিমানে অসুস্থ লাগলে চুপ করে বসে থাকবেন না। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেবিন ক্রুকে জানান। পরিস্থিতি গুরুতর হলে তাঁরা বিমানে থাকা চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য চাইতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিক্যাল সাপোর্ট টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

flight asthma attack breathlessness emergency what to do mid air
ইনহেলার থাকুক হাতের নাগালে। ছবি: সংগৃহীত

শুয়ে নয়, সোজা হয়ে বসুন
অ্যাটাকের সময় যতটা সম্ভব সোজা হয়ে বসুন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হতে পারে। শ্বাসকষ্টের সময় চিৎ হয়ে শোয়া এড়িয়ে চলুন। ভয় বা আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে, তাই যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।

কখন পরিস্থিতি জীবনসঙ্কটের?
রিলিভার ইনহেলার নেওয়ার পরও শ্বাসকষ্ট না কমলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত সাহায্য প্রয়োজন। শ্বাসকষ্টের কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারা বিশেষ সতর্কসংকেত। ঠোঁট বা মুখ নীলচে বা ধূসর হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অত্যন্ত বেশি শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হওয়া গুরুতর, এমনকী জীবনসঙ্কটজনক অ্যাজমা অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে কেবিন ক্রুকে জানানো জরুরি।

বিমানে ওঠার আগের প্রস্তুতি
অ্যাজমা থাকলে রিলিভার ইনহেলার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ওষুধ চেকইন করা লাগেজে নয়, হাতের ব্যাগে রাখুন। এমন জায়গায় রাখুন যাতে বিমানে বসেই সহজে বের করতে পারেন। দীর্ঘ বিমানযাত্রার আগে নিজের অ্যাজমা অ্যাকশন প্ল্যান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।

আকাশ-পথে চিকিৎসার সুযোগ কম। তাই অ্যাজমা থাকা যাত্রীর ক্ষেত্রে আগে থেকে সচেতনতা, উপসর্গ দ্রুত চেনা এবং সময়মতো সাহায্য চাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *