হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি ২৫টি প্রথম সারির কোম্পানির ৪৫ জন পদস্থ কর্তার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ডব্লিউএমজি গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশ-বিদেশের সিইও, সিএফও এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উত্তরপ্রদেশে শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজ্যের স্থিতিশীল পরিবেশ ও উন্নত আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৬৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছেন। এই বিনিয়োগগুলি মূলত উৎপাদন, সবুজ শক্তি, বায়ো-রিফাইনারি, ওষুধ শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে হতে চলেছে। এর ফলে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের চিত্র পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। আগে যে রাজ্য ‘বিমারু’ (পিছিয়ে পড়া) হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ তা উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রতিটি ইনভেস্টমেন্ট উত্তরপ্রদেশে নিরাপদ। ২০১৭ সালের আগে রাজ্যে যে দাঙ্গা ও মাফিয়া রাজ ছিল, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে তা এখন অতীত। গত সাড়ে আট বছরে রাজ্যে কোনও দাঙ্গা বা কার্ফু হয়নি।
পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের মোট এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের ৫৫ শতাংশই এখন উত্তরপ্রদেশে। রাজ্যে পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। ২০১৮ সালের ইনভেস্টর সামিটে যেখানে ৪.৬৭ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছিল, ২০২৩ সালের গ্লোবাল ইনভেস্টর সামিটে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ লক্ষ কোটি টাকায়।
যোগী আদিত্যনাথ শিল্পপতিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বিকশিত উত্তরপ্রদেশ’ অপরিহার্য। দক্ষ জনশক্তি, ওডিপি যোজনা এবং আইআইটি-আইআইএমের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এই রাজ্যকে বিনিয়োগে আস্থার ঠিকানায় পরিণত করেছে। শিল্পপতিদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে পরিবেশ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।
