বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে অধিকৃত কাশ্মীর! পাক সেনার গুলিতে একাধিক মৃত্যু, শঙ্কিত শাহবাজ

বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে অধিকৃত কাশ্মীর! পাক সেনার গুলিতে একাধিক মৃত্যু, শঙ্কিত শাহবাজ

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠল পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK)। সোমবার পিওকেতে ‘আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’র বিক্ষোভ থামাতে দাঁত-নখ বের করল পাক সেনা। সেনার গুলিতে সেখানে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সেনার এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনতা।

পাক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসছে অধিকৃত কাশ্মীর। অভিযোগ, গোটা অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও পানীয় জলের অভাব গুরুতর। বারবার দাবি জানানো হলেও সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সরকারি কাজে অবহেলা, দুর্নীতি, ঘুষ মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে সমগ্র অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন নীলম ভ্যালি পাবলিক অ্যাকশন কমিটির মুখপাত্র শওকত নওয়াজ মির। তিনি বলেন, ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করেছে। সরকার যদি এভাবে জনগণকে অবহেলা করে তবে তার প্রতিক্রিয়া তো আসবেই। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে কোনওরকম ধর্মঘট বরদাস্ত করা হবে না।

মিরের ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার হাজার হাজার মানুষ ব্যানার হাতে নিয়ে পথে নামেন। পুরো অঞ্চল জুড়ে ‘শাটার ডাউন ও চাক্কা জ্যাম’ করা হয়। কমিটির ৩৮ দফা দাবির অন্যতম হল কাঠামোগত সংস্কার। পাশাপাশি অধিকৃত কাশ্মীরের বিধানসভায় পাকিস্তানের বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২ আসনের সংরক্ষণ বাতিল করার দাবিও জানানো হয়। এই পরই সেই বিক্ষোভ দমন করতে মাঠে নামে পাক সেনা ও আইএসআইয় সমর্থিত মুসলিম কনফারেন্সের সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। এমন বেশ কিছু ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন যুবক বন্দুক হাতে দাপাদাপি করছেন। বন্ধুকও ছুড়তে দেখা গিয়েছে কয়েক জনকে। ইসলামাবাদ থেকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে।

পাক সেনা ও দুর্বৃত্তদের এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মির। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল, গত ৭০ বছর ধরে এখানকার জনগণকে তাঁদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। হয় আমাদের অধিকার ফেরাতে হবে, অন্যথায় জনগণের ক্রোধের মুখোমুখি হতে হবে।’ ২০২৪ সালে ঠিক একইরকম আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছিলেন অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। এক বছরের মাথায় ফের একই ঘটনায় চাপ বাড়ছে শাহবাজ সরকারের। উল্লেখ্য, চলতি মাসে মরক্কো সফরে গিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রাজনাথ সিং। জানিয়েছিলেন, “আমাদের পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কোনও হামলা চালানোর প্রয়োজন নেই। ওটা আমাদেরই। পিওকে একদিন নিজে থেকেই বলবে আমি ভারতের অংশ।” একইসঙ্গে বলেন, “সেখানকার মানুষই বর্তমান প্রশাসনের থেকে স্বাধীনতার দাবি তুলেছেন। পিওকের সেই স্লোগান আপনারাও নিশ্চয়ই শুনেছেন।” ফের একবার সেই ধ্বনিই শোনা গেল পিওকেতে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *