‘বিজেপি বিধায়কের পায়েই এসে পড়তে হবে’, বাঁকুড়ার শিক্ষককে স্থানীয় নেতার ‘হুমকি’, তুঙ্গে বিতর্ক!

‘বিজেপি বিধায়কের পায়েই এসে পড়তে হবে’, বাঁকুড়ার শিক্ষককে স্থানীয় নেতার ‘হুমকি’, তুঙ্গে বিতর্ক!

রাজ্য/STATE
Spread the love


ক্লাসরুমে ঢুকে ‘দাদাগিরি’ দেখিয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক! বাংলার শিক্ষককে ধমক দিয়ে কার্যত খবরে উঠে এসেছিলেন তিনি! শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এবার সেই শিক্ষককে উদ্দেশ্য করেই সামাজিক মাধ্যমে ‘হুমকি পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। ফেসবুক লাইভ করে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিপ্রদাস অধিকারী বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল ক্ষমতায় না থাকলে এই শিক্ষককে ওই বিজেপি বিধায়কের পায়ের তলায় এসে পড়তে হবে।” এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর।

আরও পড়ুন:

গত মঙ্গলবার কুশমুড়ি হাইস্কুলে আচমকা হাজির হয়েছিলেন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাঁড়া। অভিযোগ, শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই তিনি সরাসরি একটি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েন। পড়ুয়াদের সামনেই স্কুলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে বচসায় জড়ান! শিক্ষককে ক্লাসের মধ্যে ধমকান বলে অভিযোগ। বিধায়কের এহেন ব্যবহার প্রসঙ্গে শিক্ষক মহলেও ক্ষোভ দানা বাঁধে। স্কুলের তরফে ওই বিধায়কের নামে অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার ইন্দাস-সহ বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের মিছিল-সভা করে। তাদের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধির দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, ‘হম্বিতম্বি’ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রবেশ এবং শিক্ষকের মর্যাদাহানি মেনে নেওয়া যায় না।

কিন্তু বিতর্ক থামার বদলে আরও ঘনীভূত হয়। রবিবার রাতে ফেসবুক লাইভে সরব হন বিজেপির ইন্দাস মণ্ডল সভাপতি বিপ্রদাস অধিকারী। ওই শিক্ষককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তৃণমূল না থাকলে তখন আপনাকে এই বিজেপি বিধায়কেরই পায়ের তলায় এসে পড়তে হবে।” এই মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। বিপ্রদাস অধিকারীর দাবি, বিধায়ক অনুমতি ছাড়া ক্লাসে ঢোকার জন্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। দলের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল এই ঘটনাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। সেই প্রেক্ষিতেই আমি কথা বলেছি।”

আরও পড়ুন:

তৃণমূল অবশ্য একে ‘স্পষ্ট হুমকি’ বলেই চিহ্নিত করেছে। ইন্দাসের ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ হামিদের কটাক্ষ, “বিজেপির সংস্কৃতিই হল ধমকানো-চমকানো। একজন শিক্ষককে ‘পায়ের তলায়’ আসতে হবে বলা শুধু অসম্মানজনক নয়, ভয় দেখানোর রাজনীতি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তারা রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা বানাতে চাইছে।” তাঁর দাবি, “এই ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় বিজেপির দায়বদ্ধতা কতটা।” যদিও এই বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত বিধায়ক সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি। বিজেপি নেতার মন্তব্য ঘিরে এলাকায় প্রতিবাদে সরব তৃণমূল নেতৃত্ব।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *