বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় হাড়হিম কাণ্ড! প্রকাশ্য রাস্তায় শিশুকে ‘খুন’, গুরুতর জখম মা

বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় হাড়হিম কাণ্ড! প্রকাশ্য রাস্তায় শিশুকে ‘খুন’, গুরুতর জখম মা

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


প্রণব সরকার, আগরতলা: বিজেপিশাসিত রাজ্য ত্রিপুরায় হাড়হিম ঘটনা। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দিনেদুপুরে ‘খুন’ হল এক শিশু। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে মারাত্মকভাবে জখম হলেন তার মাও! তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার শনিছড়া এলাকায়। ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তার দাবিতে সরব হন স্থানীয়রা। প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল ছুটির পর মা বিজয়া সিনহা তাঁর আট বছরের ছেলে অমৃতকে স্কুটিতে করে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নদীয়াপুর এলাকার অর্জুন টিলা সংলগ্ন পথে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়! রাস্তাতেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন দু’জনে। ঘটনার পড়ে এলাকা ছাড়ে অভিযুক্তরা। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে শনিছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অরিজিৎ দাস অমৃতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতরভাবে আহত বিজয়া সিনহাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিলচর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই তিনি ভর্তি আছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজয়া সিনহার সঙ্গে তাঁর স্বামী অরুণকান্তি সিনহার দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছে। অরুণকান্তি সিনহা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পারিবারিক বিরোধ? সেই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, দুপুর প্রায় দু’টো নাগাদ ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করেনি। প্রতিবাদে সন্ধ্যায় স্থানীয়রা শনিছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘেরাও করেন। পরে গাছ ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে এলাকায় ৮ নম্বর অসম–আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসও দেওয়া হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *