ধ্রবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: জল্পনা সত্যি করে শুক্রবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং জয়প্রকাশ মজুমদারের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্নো মিত্র। যোগদান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেত্রী জানান, “একটা সময়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। যেরকম ভেবেছিলাম বিষয়টা সেভাবে এগোয়নি। তবে ভুল তো মানুষ মাত্রই করে।” এরপরই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন পার্নো। পাশাপাশি দলীয় পতাকা হাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেও শোনা গেল অভিনেত্রীকে।
পার্নোর তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে আকৃষ্ট হয়ে পার্নোই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। মাননীয়ার নির্দেশে পার্নোকে দলে স্বাগত জানানো হল। পাশাপাশি ‘অভিনেত্রী পার্নো’রও প্রশংসা করেন তিনি।
সামনেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। তার প্রাক্কালেই তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্নো। যা কিনা অভিনেত্রীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উসকে দিল, বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনেও অবশ্য প্রার্থী হিসেবে ভোটের ময়দানে ছুটেছিলেন পার্নো। তবে তৃণমূলের তাপসের বিরুদ্ধে বিজেপির টিকিটে বরানগরের জমিতে পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন অভিনেত্রী। এদিকে কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ উগড়ে দিয়েছিলেন পার্নো। এবার তৃণমূলে যোগ দিয়েই জানালেন, বিজেপিতে যাওয়া ভুল ছিল।
উনিশের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক টলিউড তারকায সেই তালিকায় পার্নোও ছিলেন। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরই যে বিজেপির থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন নায়িকা, সেখবরও আগেই মিলেছিল। এবার ছাব্বিশ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পার্নো মিত্রর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিতপূ্র্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে টলিপাড়ার কোন কোন তারকামুখকে দেখা যাবে? প্রতিবারই সেই কৌতূহল থাকে। পার্নোর তৃণমূলে যোগ দেওয়া কি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে? ছাব্বিশে বাংলার ভোটে কি অভিনেত্রীকে তৃণমূলের পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে? নজর থাকবে সেদিকে।
