‘বাংলাদেশি’ বলে মার! বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে চরম হেনস্তার শিকার পুরুলিয়ার ৮ পরিযায়ী শ্রমিক

‘বাংলাদেশি’ বলে মার! বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে চরম হেনস্তার শিকার পুরুলিয়ার ৮ পরিযায়ী শ্রমিক

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


অমিতলাল সিং দেও, মানবাজার: বাংলায় কথা বলার জন্য ফের বাংলাদেশি তকমা! বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। যার ফলে এক জনের হাত পর্যন্ত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় মানুষজনের কাছ থেকে ঘটনার খবর পেয়ে ৮ জনকে উদ্ধার করে রাইপুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ। ঘটনার পর পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ মাস আগে ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার সুরজপুর এলাকায় পাউরুটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের শেখ জসিম। ওই যুবক সেখানে প্রায় দু’মাস কাজ করার পর বাড়ি ফিরে আসেন। কারখানায় আরও শ্রমিকের চাহিদা থাকায় মাস খানেক আগে তার ভাই শেখ আলম ছাড়াও চেপড়ি গ্রামের শেখ বাবিন ওরফে শরিফুল, শেখ জুলফিকার ও শেখ সাহিল-সহ তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজী এবং আড়শা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইল সেখানে যায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আটজন ছত্তিশগড়ের সুরজপুর এলাকার পেররী গ্রামে একটি পাউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দেয়। অভিযোগ, রবিবার বিকেলে কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমস্যা হয় তাঁদের। এর পরেই স্থানীয় কিছু বজরংদলের সদস্যরা ওই কারখানায় পৌঁছায়। বাংলায় কথা বলায় তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ। এর ফলে শেখ জসিমের একটি হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় মানুষজন ঝামেলার কথাটি থানায় জানায়। এরপর পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

চেপড়ি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি শেক ইকবাল বলেন, “রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড় পুলিশের এক আধিকারিক আমাকে ফোন করে এই আটজনের নাম, ঠিকানা জানতে চান। আমি সমস্ত কিছু তাঁকে জানিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। পরে পুরুলিয়া মফস্বল থানার আইসির সঙ্গে আমরা দেখা করি। পরিবারের তরফে প্রত্যেকের নথি পত্র পুলিশের হাতে জমা করেছি।” তবে মাতৃভাষা বাংলা বলার জন্য এরকম তকমা দিয়ে মারধর করায় আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা। তেঁতলো গ্রামের বাসিন্দা আরবাজ কাজীর বাবা সায়েদ কাজী বলেন,” আমিও ঝাড়খন্ডে পাউরুটি কারখানায় কাজ করি। ছেলেকে বাংলাদেশি বলে মারধর করার কথা শুনে খুব ভয়ে আছি।”

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়শা ও পুরুলিয়া মফস্বল থানার তরফে প্রত্যেকের পরিচয় পত্র-সহ প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। যাতে তাঁরা সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরে আসেন, তার জন্য যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *