ফের সময় চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন এনসিপিআই সাংসদরা। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারই ছিল তাঁদের জবাব দেওয়ার শেষ দিন। আর সেই সময়সীমার শেষ দিনেই স্পিকারের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে আরও সময় চাইলেন তাঁরা। ফলে দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল। উল্লেখ্য, এই নিয়ে পঞ্চম বার সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা।
সূত্রের খবর, স্পিকার আপাতত দিল্লির বাইরে রয়েছেন। ফিরে এসে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। লোকসভার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংসদরা। এ বার সময় বাড়ানোর আবেদনের পিছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে স্পিকার। আবেদনের যৌক্তিকতা বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। ফলে আজ, মঙ্গলবার সময়সীমা শেষ হলেও বিদ্রোহী সাংসদদের ভাগ্য নির্ধারণে নতুন করে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ২০ জন সাংসদ একযোগে এনসিপিআই নামের নামগোত্রহীন দলে যোগ দেন। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানান। সেইমতো সংসদে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের আসন অদলবদলও হয়। কিন্তু এখনও এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে তাঁরা স্বীকৃতি পাননি।
সেই ২০ সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে ওই সাংসদরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে গিয়েছেন। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। পালটা তাঁদের অবস্থান, এটি বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি। এতে দলত্যাগ বিরোধী আইন কাজ করবে না। এখন দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের পদ থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও স্পিকারের হাতে। এর আগে স্পিকারের কাছে একাধিকবার সময় চেয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা। এবার ফের সময়সীমা পেরোনোর শেষ দিনে সময় চাইলেন এনসিপি সাংসদরা।
এদিকে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সবপক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস দেওয়া হয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলবদলুকে। এই সাংসদদের নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া কতদূর এগোলো জানতে নোটিস যায় স্পিকারের কাছেও। শীর্ষ আদালত এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। এই অবস্থায় স্পিকার সুদীপদের সময় দেন কি না সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
