ফের চর্চায় রাজতন্ত্র

ফের চর্চায় রাজতন্ত্র

শিক্ষা
Spread the love


২০২৫ সালে নেপালে গণ অভ্যুত্থানের সময় সেদেশের জেন জেড-এর বড় অংশের দাবি ছিল রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন। রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থনে স্লোগান শোনা গিয়েছিল জেন জেড-এর মিছিলে। যদিও নেপাল (Nepal) আপাতত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে। নেপালেরই মতো এখন ইরানে (Iran) সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে উঠেছে রাজতন্ত্র ফেরানোর স্লোগান।

‘লং লিভ দ্য শাহ’, ‘দ্য পাহলভি উইল রিটার্ন’, ‘কিং অফ ইরান রিটার্ন টু ইরান’ ইত্যাদি স্লোগানে ভাসছে ইরান। আবার কোথাও আন্দোলনকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘ইরান উইদাউট কিং হ্যাজ নো অ্যাকাউন্ট।’ ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামিক বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন ইরানের শেষ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি।

গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানে যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হল, তখন আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া ছিল নিছক অর্থনৈতিক।‌ ডলারের তুলনায় ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দামের ব্যাপক পতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের গগনচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট প্রভৃতি সমস্যার প্রতিবাদে তখন রাস্তায় নেমেছিলেন মানুষ।‌

এবার কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যে মানুষের বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেহারা নেয়। দাবি ওঠে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রধান আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রায় পঞ্চাশ বছরের ইসলামি শাসনের অবসান ঘটানোর। খামেনেইয়ের মৃত্যু কামনা করে স্লোগানও শোনা গিয়েছে মিছিলে। এই মুহূর্তে গণবিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে গোটা ইরান। রাজধানী তেহরান থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত একশোটি শহরে।

বিভিন্ন সরকারি ভবন, গাড়ি, বাসে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। মারমুখী জনতার মোকাবিলায় দমনপীড়ন শুরু করেছে সরকার। সেনা নেমেছে সর্বত্র। গুলি চলছে যথেচ্ছ। হিংসাত্মক আন্দোলনে প্রায় ৩০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসেব আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া ইরান সরকারের। একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। আবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, মৃত্যুর সংখ্যা ১২০০০।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে দিয়েছে সরকার। তার ফলে ইরানের মানুষ বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারছেন না।‌ একমাত্র ভরসা এলন মাস্কের স্টারলিংক নেটওয়ার্ক। ইরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের দ্রুত দেশে ফিরে আসতে বলেছে নয়াদিল্লি।‌ ভারত থেকে কাউকে সেদেশে যেতেও বারণ করা হয়েছে।‌ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের পিছনে মার্কিন মদত দেখছেন খামেনেই (Ayatollah Khamenei)। তাঁর কথায়, আন্দোলন, প্রতিবাদের নামে সর্বত্র গুন্ডামি চলছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানের নিরীহ জনগণের ওপর নির্যাতন করছে সরকার। এই নির্যাতন বন্ধ না হলে ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। সেই লক্ষ্যে পুরোদস্তুর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

খামেনেই পালটা জানিয়েছেন, আক্রান্ত হলে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ইরানে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি এবারই প্রথম শোনা গেল, তা নয়। ২০১৭-’১৮ সালে একই দাবি উঠেছিল। তখন একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ৩৯ শতাংশ মানুষ রাজতন্ত্রে ফিরতে চাইছেন।‌

তারপর ২০২৪ সালে একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থার জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ৮০ শতাংশ ইরানবাসী রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চান। ইরানের শেষ সম্রাট রেজা শাহ পাহলভির বড় ছেলে রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সাল থেকে নির্বাসিত। ১৯৬০ সালে তাঁর জন্ম। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা আমেরিকায়। ইরানের সাম্প্রতিক আন্দোলনে তিনি যথেষ্ট বিচলিত। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বহিষ্কৃত যুবরাজ।

এরমধ্যে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকম গোপনে দেখা করেছেন রেজা পাহলভির সঙ্গে। পাহলভি পরিষ্কার জানিয়েছেন, সরাসরি রাজবংশের পুনঃপ্রতিষ্ঠা তিনি চান না। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তাঁর উপদেশ, সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চাইছেন কি না জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে তাঁরা নিজেরা আগে স্থির করুন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *