নদিয়ার নবদ্বীপের রাস উৎসব বহু দশক ধরে প্রসিদ্ধ। নবমীর শোভাযাত্রা দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে জনসমাগম হত। এবার এই রাস উৎসবকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিত এবং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হল। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় রাস উৎসব কমিটি এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিজে ও তাসা পার্টির মধ্যে প্রতিযোগিতাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাত ১১টার পর কোনওভাবেই মাইক, তাসা ব্যবহার করা যাবে না। উৎসবের দিনগুলিতে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সেই কথাও জানানো প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
আজ, রবিবার নবদ্বীপ প্রেস ক্লাবে এই বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। এবারের রাস উৎসবের অন্যতম সিদ্ধান্ত, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী নবমীর শোভাযাত্রা পুনরায় চালু করা। ২০২০ সাল থেকে এই শোভাযাত্রা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। অতীতে এই শোভাযাত্রায় প্রচুর মানুষের উপস্থিতি দেখা যেত। চলতি বছর থেকে ফের সেই শোভাযাত্রা বেরবে। নবমী-দশমী দু’দিন ধরে শোভাযাত্রা বা ‘আরোং’ অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খল রাখতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি এই স্বেচ্ছাসেবকরাও শোভাযাত্রা পরিচালনা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন।
আরও পড়ুন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও এবার কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনও পুজো কমিটি শোভাযাত্রা, নবমীর অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন অমান্য করলে শাস্তির মুখে পড়বে। তিন বছরের জন্য কমিটিকে বাতিল করাও হতে পারে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও অসামাজিক কাজ যাতে না হয়, সেজন্য পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি থাকবে। এবছর নিরাপত্তার জন্য আধা সেনাও মোতায়েন থাকছে।
রাস উৎসবে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের সুবিধার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা, অস্থায়ী আবাসন এবং অস্থায়ী শৌচাগারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকশো বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা এবার লক্ষ্য। রাসের কমিটিগুলিও এবার এই বিষয়ে যথেষ্ঠ আশাবাদী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
