ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ নয়। মহারাষ্ট্রের সরকারি-আধা সরকারি চাকরি, এবং শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য প্রস্তাবিত সংরক্ষণ বাতিল করল দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের নেতৃত্বাধীন মহাজুটির সরকার। ২০১৪ সালে ওই সংরক্ষণ চালুর প্রস্তাব করে কংগ্রেস ও এনসিপির জোট সরকার।
আরও পড়ুন:
২০১৪ সালে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে রাজ্যের সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্পেশ্যাল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস এ ক্যাটেগরির জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার প্রস্তাব দিয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি সরকার। রাজ্যের মুসলিমদের একটা বড় অংশকে ওই স্পেশ্যাল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস এ ক্যাটেগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে বকলমে ওই সংরক্ষণ চালু হয় মুসলিমদের জন্য। ওই অধ্যাদেশে কার্যকর হলে রাজ্যের সব সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষণ চালু হত পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জন্য।
কিন্তু ওই অধ্যাদেশটি জারি করার পরই সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। পরে হাই কোর্ট ওই অধ্যাদেশে স্থগিতাদেশ দেয়। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, কোনও অধ্যাদেশ বজায় রাখতে গেলে জারি হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে আইনসভায় বিল এনে সেটিকে আইনে পরিণত করতে হয়। সমস্যা হল, এর মধ্যেই মহারাষ্ট্রে সরকার বদলে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ফলে ওই অধ্যাদেশ আর দিনের আলো দেখেনি। কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে যায় অধ্যাদেশটি।
আরও পড়ুন:
কিন্তু মজার কথা হল, বুধবার নতুন করে সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে ২০১৪ সালের সেই নির্দেশ বাতিল করছে সরকার। ঠান্ডা ঘরে চলে যাওয়া একটি অধ্যাদেশ এভাবে বিবৃতি দিয়ে বাতিল করার কী প্রয়োজন পড়ল? সরকারের বক্তব্য, আমজনতার মধ্যে সচেতনতা না থাকায় বহু মানুষ ওই স্পেশ্যাল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস এ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করছিলেন। সেটা বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা অবশ্য বলছে, এটা বিজেপির সংখ্যালঘু বিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
সর্বশেষ খবর
