ফাঁসিদেওয়া : শীতের মরসুমে উত্তরবঙ্গের জলাশয়গুলি যেন পরিযায়ী পাখিদের মেলা। বিশেষত শহর শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি ব্যারেজ ও সংলগ্ন জলাভূমিগুলিতে ভিড় জমিয়েছে হাজার হাজার বিদেশি পাখি। কিন্তু, এই পরিযায়ী অতিথিদের নিরাপত্তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের ব্যবহার করে ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বর্জ্য।
এই পরিস্থিতিতে পাখিদের বিচরণক্ষেত্রকে দূষণমুক্ত করতে এবং জীবন বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কার্সিয়াং বনদপ্তর। সোমবার ‘বিশ্ব জলাভূমি দিবস’ উপলক্ষে ফুলবাড়ি ব্যারেজে সাফাই অভিযান চালাল ঘোষপুকুর রেঞ্জের বনকর্মীরা। ঘোষপুকুর রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার সংবর্ত সাধু সহ আরও বেশ কয়েকজন বনকর্মী এই অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।
সংবর্ত সাধু বলেন, ‘গত ১১ জানুয়ারি এই এলাকায় পাখিশুমারি হয়েছিল। সেই সময়ই নজরে আসে, জলাশয়ের বিভিন্ন প্রান্তে প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল এবং মাছ ধরার পুরনো জাল পড়ে রয়েছে। এই সমস্ত বর্জ্য শুধু যে জল দূষিত করছে তা নয়, বরং মাছ ধরার পুরনো জালে আটকে পাখিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
মূলত রুডিশেল ডাক (Rudishel Duck), করমোরেন্ট (Cormorant), পোচার্ড (Pochard), ল্যাপউইং (Lapwing) এবং গাদওয়াল (Gadwall)- এর মতো পাখির প্রজাতিগুলি এই এলাকায় সবথেকে বেশি আসে। তাদের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান করা হয়। কার্সিয়াংয়ের ডিএফও দেবেষ পাণ্ডের নির্দেশে চারটি নৌকা নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ব্যারেজের জলে তল্লাশি চালানো হয়।
ফরেস্ট রেঞ্জার সংবর্ত সাধুর নেতৃত্বে জনা আটেক বনকর্মী জল থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক এবং পরিত্যক্ত জাল উদ্ধার করেন। সেই বর্জ্যগুলিকে বস্তাবন্দি করে ঘোষপুকুর আমবাড়িতে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়েই ক্ষান্ত হবে না তাঁরা। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে আগামীদিনে ব্যারেজ এলাকায় প্রচারাভিযানও চালানো হবে।
পর্যটকরা যেন যত্রতত্র প্লাস্টিক বা আবর্জনা না ফেলেন এবং পিকনিকের নামে পাখিদের উপযুক্ত শান্ত পরিবেশে বিঘ্ন না ঘটান, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে বলে জানানো হয়েছে। শীতের এই মরসুমে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে এই ধরনের সাফাই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। পরিবেশপ্রেমীরা মনে করছেন, বনদপ্তরের এই সক্রিয়তায় এই জলাভূমি পরিযায়ী পাখিদের কাছে আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
