ইতিহাস গড়া নাকি ভবিষ্যতের পথে কয়েক কদম এগিয়ে যাওয়া? কী বিশেষণে পরিচিতি পাবে শনিবারের কর্মসূচি? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবুজ পতাকা দেখিয়ে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন। সফরের সঙ্গী হল উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
সানি সরকার
লাল-কালচে ইঞ্জিনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়ার’ লোগো। তাতে চাকা দিয়ে তৈরি সিংহের ছবি। যা দেখে ঘুম বিশেষজ্ঞ মাইকেল ব্রুসের কথা মনে পড়ে গেল। নিশ্চিন্ত ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য ডলফিন, সিংহ, ভালুক ও নেকড়ে- এই চারটি প্রাণীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন মাইকেল। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারেও যাত্রীদের ঘুম আরামদায়ক ও নিশ্চিত করার নানা আয়োজন। শুধু ভালো বার্থ বা সিট নয়, রাতে ঘুমের সময় যাতে চোখে আলো না পড়ে, সেজন্য পর্দা টেনে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।
মালদার মাধবনগর কাছারির যতীন রায় বা মানিকচকের কাকলি দেব রায়ের মতো ট্রেনটির সওয়ার অনেকের মতে, আসনগুলি গরিব রথের কোচ থেকে কিছুটা উন্নত। আজকাল পোষ্যকে কাছছাড়া করতে চান না অনেকে। বাইরে গেলেও কুকুর হোক বা বিড়াল- সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। ট্রেনে এতকাল এজন্য যে হ্যাপা ছিল, তা কাটতে চলল বন্দে ভারত স্লিপারে। শনিবার গুয়াহাটিগামী ট্রেনটিতে বিশেষ পাস নিয়ে যাওয়ার সময় গাজোলের মুক্তি চন্দের সঙ্গী ছিল পোষ্য সারমেয়।
মালদা টাউন স্টেশনের প্রবেশপথে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছাড় মিললেও সারমেয়তে আপত্তি জানালেন এক নিরাপত্তারক্ষী। নাছোড় মুক্তির স্পষ্ট কথা, ‘এই ট্রেনে পেট বক্স রয়েছে। তাহলে ও কেন যেতে পারবে না?’ ওই নিরাপত্তারক্ষী সম্ভবত ফোনে পদস্থ কোনও কর্তার সঙ্গে কথা বলার পর ট্রেনে ওঠার অনুমতি মিলল পোষ্যের। মুক্তি বললেন, ‘আমি জেনেই এসেছি, চালকের কামরার পিছনে রয়েছে পোষ্যদের রাখার পেট বক্স।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবুজ পতাকা দেখানোর পর ট্রেনটির চাকা গড়াতেই অনেককে স্নান করার জায়গা খুঁজতে দেখা গেল। কেননা, জানা ছিল এই ট্রেনে সেই সুবিধা আছে। বাস্তবে সেই সুযোগ শুধু ফার্স্ট ক্লাসের কোচে। ফলে অনেককে হতাশ হতে হয়েছে। রেলপথে দুর্ঘটনা নিয়ে কিছুটা হলেও আশঙ্কা কম হতে পারে এই সেমিহাইস্পিড ট্রেনটিতে। কেননা, বৈদ্যুতিক মাল্টিপল ইউনিট ট্রেনটি অ্যান্টি কলিশন প্রযুক্তিতে তৈরি এবং রয়েছে কবচের সুরক্ষা।
ভালোমন্দ যাই থাকুক, বন্দে ভারত স্লিপারকে ঘিরে অতি উৎসাহ উত্তরবঙ্গে। শুধু স্টেশনে নয়, রেলপথের ধারে ধারে। মালদা টাউন স্টেশন থেকে ছাড়বে বলে সেখানে কালো মাথার ভিড় তো ছিলই, ট্রেনটিকে এক ঝলক দেখাতে হরিশ্চন্দ্রপুর, খুরিয়াল, কানকি ইত্যাদি স্টেশনেও দাঁড়িয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। কেউ জাতীয় পতাকা দেখিয়েছেন, কেউ মোবাইলের ক্যামেরায় ট্রেনটির ছবি তুলতে ব্যস্ত। যাঁরা স্টেশনে যাননি, তাঁরা রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে দেখেছেন, হাত নেড়েছেন, ছবি তুলেছেন।
উৎসাহ এমনই যে, মালদা থেকে সওয়ারি আমন্ত্রিত স্কুল পড়ুয়াদের নামাতে বারসই স্টেশনে ট্রেনটি দাঁড়াতে দৌড়ে দুই তরুণ উঠে পড়লেন কোচে। এক আরপিএফ জওয়ান পাস আছে কি না জানতে চেয়ে উত্তর পেলেন, ‘যা ভাড়া শুনছি, এরপর তো চড়তে পারব না। তাই চড়লাম। তবে বেশি দূর যাব না। আলুয়াবাড়িতে নেমে যাব।’ সাধ থাকলেও ভাড়ার অঙ্কে বন্দে ভারতে চড়ার আশাপূরণ অনেকের নাও হতে পারে।
The publish পথের ধারে কাতারে দর্শক appeared first on Uttarbanga Sambad.
