নীতীশেই ভরসা

নীতীশেই ভরসা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


যাবতীয় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াকে উড়িয়ে দিয়ে নীতীশ কুমারকে সামনে রেখে বিহারে বিপুল জয় পেল এনডিএ। ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের মহাজোট। এনডিএ-র পাল্লা ভারীর ইঙ্গিত প্রায় সমস্ত বুথফেরত সমীক্ষাতে ছিল। কিন্তু কোনও সমীক্ষক সংস্থা এনডিএ-কে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়নি। বরং মহাজোট যথেষ্ট টক্কর দেবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল সমীক্ষাগুলিতে।

বাস্তবে বিজেপি-জেডিইউ-এলজেপি (রামবিলাস)-র এনডিএ বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০৮টি দখলে নেবে বলে মনে হচ্ছে। উলটোদিকে মহাজোটের ঝুলিতে মেরেকেটে হয়তো ২৮টি আসন। অথচ ২০২০ সালে আরজেডি ছিল বিহারের একক বৃহত্তম দল। এবার সেই মর্যাদা দূরস্থান, বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়া নিয়েও গভীর সংশয় রয়েছে আরজেডি’র।

মগধভূমে ভোটের দামামা বাজার বহু আগে থেকে ভোট চুরির অভিযোগে সরব ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। বিহারে প্রথমে পলায়ন রোকো নকরি দো’ পদযাত্রা, তারপর ভোটার অধিকার যাত্রা করেন তিনি। ভোট চুরি এবং ওই দুটি পদযাত্রা বিহারে কংগ্রেসের মরা গাঙে খানিকটা বান আনবে বলে আশা করেছিলেন রাহুল সহ দলের অন্য নেতা-কর্মীরা। সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন বিহারের মানুষ। একই অবস্থা বামেদের।

সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটের ফলাফলে এনডিএ’র এই দাপট এককথায় অভূতপূর্ব। কেননা, একটানা ক্ষমতায় থাকলে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া থাকা স্বাভাবিক, তার লেশমাত্র অনুভব হল না। অথচ এই হাওয়ার সঙ্গে বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কাজের সুযোগ না থাকায় ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, ২০ বছর এনডিএ ক্ষমতায় থাকলেও অনগ্রসর রাজ্যের পরিচিতি না ঘোচার মতো ফ্যাক্টরগুলিও ছিল।

ছিল এসআইআর নিয়ে বিতর্কও। তা সত্ত্বেও এনডিএ-র প্রত্যাবর্তনে স্পষ্ট, বিরোধীদের বিশ্বাস করেনি মানুষ। নিজেদের মধ্যে সমন্বয় এবং সঠিক সময়ে সঠিক রণকৌশলের অভাবও ছিল ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের মধ্যে। আসনরফা চূড়ান্ত করতে অহেতুক বিলম্বে তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, আসন বণ্টনের সমস্যা নিয়ে শেষমুহূর্ত পর্যন্ত টালবাহানা চলেছে। কংগ্রেস ও ভিআইপি নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে আসন নিয়ে অহেতুক দরকষাকষি করেছে।

কিন্তু এনডিএ’র অন্দরে আসনরফা নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি। নীতীশ কুমারকে সামনে রেখে ভোটে জিতল এনডিএ। তাঁকে দশমবার মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কি না, তা ভোটপর্বে ধোঁয়াশাতেই রেখেছিল বিজেপি। যদিও বিহার জয়ের কারিগর যে নীতীশই, ফলাফল প্রকাশের পর সেটা একবাক্যে মেনে নিয়েছে পদ্ম শিবির। তারা জানে, মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সম্মান যোজনায় ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়ার অনেকটাই এনডিএ’র দিকে ঘুরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন নীতীশ। মহিলাদের সমর্থন বরাবরই তাঁর দিকে থাকে।

এবার সবথেকে অনগ্রসর ভোটব্যাংকেও নিজের দখল অক্ষুণ্ণ রেখেছেন বিহারের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেস অবশ্য ইতিমধ্যে অভিযোগ তুলেছে, এসআইআর-এ ৬৫ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরি করেছে নির্বাচন কমিশন। একই অভিযোগ সপা’রও। বিহারের ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আগামী বছর এরাজ্যে বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্যে।

গিরিরাজ সিংয়ের মতো হিন্দি বলয়ের বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেছেন, বিহার দখলের পর বাংলার পালা। বিহারের ধাঁচে বাংলায় এসআইআর-এ বুথ থেকে ধরে ধরে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। আধার কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৩৪ লক্ষ মৃত বাসিন্দার আধার নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। কীসের ভিত্তিতে আধার কর্তৃপক্ষ এই তথ্য কমিশনকে দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

মগধভূমের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই আপাতত নজর থাকবে সকলের।

The put up নীতীশেই ভরসা appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *