গত কয়েকমাস আগে হঠাৎ করেই দ্বিতীয় বিয়ে করে বিতর্কের মধ্যে পড়েন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আর এরপরেইব তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেন তাঁর প্রথমপক্ষের স্ত্রী এবং কন্যা। এমনকী ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে হিরণ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এই অবস্থায় হিরণের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। এহেন জল্পনার মধ্যেই সোমবার প্রকাশিত হয় বিজেপির প্রার্থী তালিকা। তাৎপর্যপূর্ণ সেই তালিকায় নাম নেই হিরণের। শুধু তাই নয়, তাঁর জেতা আসন খড়গপুর প্রার্থী করা হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। স্বভাবতই হিরণের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকী তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে কী বিপক্ষে গেল? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট উত্তর, ”কে কাকে বিয়ে করবে? কি হবে! আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আপনারা জিজ্ঞেস করে নিন।”
অন্যান্যদিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে একেবারে ‘দাবাং’ মেজাজে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন। হিরণের আসন ছাতছাড়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ”গত নির্বাচনে উনি (পড়ুন-হিরণ) ঘাটাল লোকসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নিজের এলাকার বাইরে। পার্টি যদি এবার ওনাকে এলাকার বাইরে প্রার্থী করতে পারে, তাহলে তা নেতৃত্ব নিশ্চয় ভাবছে।” এই বিষয়ে দলের উপরেই ভরসা রাখার বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ। এমনকী এই বিষয়ে রাহুল সিনহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ”সকলের উদ্দেশ্যেই একটাই বার্তা। পার্টির উপর ভরসা রাখুন। আজ আমাদের রাহুল দা। কতদিন পার্টির কোন পদে ছিলেন না। তিনিও এক সময় ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁর এতদিনের পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক! পার্টি তাঁকে যোগ্য সম্মান দিয়েছে। রাজ্যসভায় নিয়ে গেছে। বহু লোকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। পার্টিতে আপ-ডাউন চলতেই থাকে। সব সময় সমান সুযোগ চলবে না। সবাইকে সুযোগ দিতে হয়। পার্টির আদর্শ এবং নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখা উচিত।”
আরও পড়ুন:
হিরণের আসন ছাতছাড়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ”গত নির্বাচনে উনি ঘাটাল লোকসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নিজের এলাকার বাইরে। পার্টি যদি একবার ওনাকে নিজের এলাকার বাইরে প্রার্থী করতে পারে, তাহলে তা নেতৃত্ব নিশ্চয় ভাবছে।” এই বিষয়ে দলের উপরেই ভরসা রাখার বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনে বিজেপির হয়ে লড়াই করেছিলেন ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২০২১-এ তাঁকে সেই আসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি জিতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু দিলীপ ঘোষের জায়গায় হিরণকে মানতে পারেননি অনেকেই। পরবর্তীতে দিলীপের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে দলের। কোণঠাসা হয়ে যান তিনি। তবে ছাব্বিশের আগে বিজেপি বুঝেছে দিলীপের মর্ম। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের মঞ্চে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে তিনি টিকিট যে পাবেন তা মোটের উপর নিশ্চিত ছিলই। খড়গপুর সদর দিলীপের চেনা ভূমি, নিঃসন্দেহে পছন্দের সিট। তবে কোন আসনে পাবেন তা নিয়ে নানামহলে নানা মত ছিল, কারণ হিরণ। যদিও শেষমেশ খড়গপুর সদরেই প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”গত কয়েকটি নির্বাচনে খড়গপুরে আমরা সব সময় লিড পেয়েছি। লোকসভায় প্রায় ৪৫০০০ লিভ পেয়েছিলাম ওখান থেকে। সুতরাং লিড নিয়ে প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন আমাদের টার্গেট টা কি? কর্মীরা ওখানে ঠিক করেছে আমরা এক লাখ ভোট ওখানে পাব।” বুধবার থেকেই সেখান পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়বেন বলেও জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
