দোল মানেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস। রঙের ছটা, গান, খাওয়াদাওয়া, বন্ধু আর পরিবারের সঙ্গে ভরপুর মজার একটা দিন। কিন্তু যাঁদের মাইগ্রেনের সমস্য়া রয়েছে, তাঁদের কাছে কখনও কখনও দিনটা হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। কারণ উৎসবের আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একাধিক ট্রিগার, যা সহজেই ইন্ধন জোগায় মাইগ্রেনের সমস্য়াকে। নিউরোসার্জেনদের মতে, মাইগ্রেন সাধারণ মাথাব্যথা নয়। এটি এক ধরনের স্নায়বিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্ক আলো, শব্দ, গন্ধ, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ— এ সবের কারণে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। দোলের দিন এ সবের উপস্থিতি থাকে একসঙ্গে। একেবারে ‘পারফেক্ট ট্রিগার’।


আরও পড়ুন:
কেন দোলে মাইগ্রেন বাড়ে?
তীব্র গন্ধ
রঙে কৃত্রিম সুগন্ধি থাকতে পারে। এ ছাড়া স্প্রে, পারফিউম, আগুনের ধোঁয়া—অনেকের ক্ষেত্রে এ সব বাড়ায় মাথাব্যথা।
উচ্চ শব্দ ও অতিরিক্ত উত্তেজনা
ডিজে, অতিরিক্ত চিৎকার করে কথা বলা- সব মিলিয়ে শব্দের মাত্রা অনেক সময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে স্নায়ুতন্ত্র ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শুরুতে বিরক্তি বা অস্বস্তি, পরে তা তীব্র মাথাব্যথায় রূপ নিতে পারে।
রোদ, তাপ ও আলো
খোলা আকাশের নিচে রঙের খেলা। কিন্তু তীব্র রোদ, ঝলমলে আলো, রঙের প্রতিফলন- এ সব চোখ ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। আর গরমে শরীরের জল কমে গেলে, সমস্যা আরও বাড়ে।
জলশূন্যতা ও অনিয়ম
উৎসবের দিনে অনেকেই কম জলপান করেন, বদলে যায় খাওয়ার সময়ও। রক্তে শর্করার ওঠানামা ও ঘুমের অভাব স্নায়ুকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ে।
দোল-পরবর্তী মাথাব্যথা
মজার বিষয় হল, অনেকের ক্ষেত্রে উৎসবের দিন নয়, বরং পরদিন ব্যথা শুরু হয়। এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘লেট-ডাউন মাইগ্রেন’ বলা হয়। অতিরিক্ত উত্তেজনার পর শরীর যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে, তখনই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।


মাইগ্রেন বাড়লে কী করবেন?
- রোদে রং খেলার সময় সানগ্লাস ও টুপি ব্যবহার করুন
- প্রাকৃতিক ও সুগন্ধিবিহীন রং বেছে নিন
- নির্দিষ্ট সময় অন্তর জলপান করুন
- খুব জোরে বাজানো স্পিকারের কাছ থেকে দূরে থাকুন
- সময়মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান
- আগের রাতে অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন
মাইগ্রেন থাকলেই যে রঙের উৎসব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে, তা নয়। নিজের শরীরের কথা শুনুন। সামান্য প্রস্তুতি আর সচেতন থাকলেই আনন্দও থাকবে, আর অস্বস্তিও অনেকটাই কমবে। উৎসবের রং লাগুক আনন্দ-উচ্ছ্বাসে, মাথাব্যথায় নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
