একটির পর একটি সিরিজ। বিশ্রামের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। চলতি বছরেই আপাতত ১২টি সিরিজ খেলেছে ভারত। একটি সিরিজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে পরেরটির প্রস্তুতি। টানা ক্রিকেটের ধকল সামলাতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও। সেই ক্লান্তির কথা স্বীকার করেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ ভারতের ‘হেডস্যর’ গৌতম গম্ভীর। তাঁর বার্তা, দেশের দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত নয়। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি তিনি।
ভারত-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, “আমরা পেশাদার। তাই কোনও অজুহাত দেওয়ার জায়গা নেই। শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্লান্ত ছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই ধকল সামলানোর ক্ষমতা আমার রয়েছে। আমি এই চাপ নিতে পারি। দেশের জন্য প্রয়োজনে বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি।” ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে যে গর্ব রয়েছে, তার সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা চলে না বলেই মনে করেন গম্ভীর। কোচের দায়িত্বে থাকলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, সেটাও তাঁর অজানা নয়। দলের সামান্য ব্যর্থতাতেও প্রশ্ন উঠবে তাঁকে নিয়ে। কিন্তু সেই সব সমালোচনা তাঁর কাছে বড় নয়। দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্ব পালনে কোনও রকম আপস করতে চান না তিনি।
আরও পড়ুন:
কঠিন সূচির মধ্যেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ শেষ করেই নিউজিল্যান্ডে উড়ে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর প্রস্তুতির জন্যও খুব বেশি সময় পাননি শ্রেয়স আইয়ারেরা। তার পরেও প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ভারত। দলের এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, “দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর মাত্র একদিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েও আমাদের ছেলেরা যে ভাবে পরিস্থিতি ও চাপ সামলে পর পর তিনটি ম্যাচ জিতেছে, তার প্রশংসা করতেই হয়।”

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ। এবার লক্ষ্য ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ। পরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থাকায় পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য খুব বেশি সময় পাননি বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তবে এবার টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তিনি। কারণ, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই দুই ফরম্যাটের কঠিন চ্যালেঞ্জ। গম্ভীর বলেন, “নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেট ও টেস্টের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে কঠিন। তাই আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনা করতে হবে। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ কীভাবে জেতা যায়, সেটাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জিততেই হবে।”
তবে দুই সিরিজে ভারতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে বোলিং বিভাগে। গম্ভীরের মতে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অভিজ্ঞতার নিরিখে ভারতের বোলিং আক্রমণ কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এত অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে এর আগে খেলেনি ভারত। টেস্টেও বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। ফলে তাঁদের উপরই বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। গম্ভীর বলেন, “নিউজিল্যান্ডে এর আগে এত অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামেনি ভারত। টেস্টেও বোলারদের অভিজ্ঞতা কম। ফলে ওদের দায়িত্ব অনেক বেশি। চাপও বেশি। ব্যাটিং নিয়ে আমাদের বিশেষ চিন্তা নেই। তাই টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো ফল করলে বোলারদের কৃতিত্বই সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য।”।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
