‘দেশিগার্ল’ প্রিয়াঙ্কার প্রিয় ‘হজমোলা’ স্বাস্থ্যের সহায়ক? স্বাদ ও স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে বিপদ?

‘দেশিগার্ল’ প্রিয়াঙ্কার প্রিয় ‘হজমোলা’ স্বাস্থ্যের সহায়ক? স্বাদ ও স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে বিপদ?

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি এক টক শো-তে বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস জানিয়েছিলেন তাঁর ব্যাগে সবসময় মজুত থাকে জনপ্রিয় একটি চিবিয়ে খাওয়ার হজমি বড়ি। শুধু প্রিয়াঙ্কা নন, ভূরিভোজের পর মুখশুদ্ধি বা স্বস্তির আশায় অধিকাংশ ভারতীয়রই পরম সঙ্গী এই সব ‘হজমকারী’ বড়ি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, জিভের তৃপ্তি মেটানো এই চটপটে হজমোলা কি সত্যিই পরিপাকে সাহায্য করে? নাকি নিছকই ‘গ্যাস্ট্রিক ইরিট্যান্ট’ বা পাকস্থলীর অস্বস্তির কারণ? গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা কিন্তু শঙ্কার কথা শোনচ্ছেন।

Priyanka Chopra’s Favorite Hajmola: Digestive Aid or Gastric Irritant

চিকিৎসকদের মতে, হজম প্রক্রিয়া ভালো হওয়ার অর্থ হল এনজাইম বা উৎসেচক এবং পিত্তরসের ক্ষরণ বৃদ্ধি পাওয়া। যা পেট ফাঁপা বা গ্যাস কমিয়ে পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে। কিন্তু অধিকাংশ আয়ুর্বেদিক বা হার্বাল নামধারী এই হজমোলাগুলি সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটে। এগুলোর মূল উপাদান হল আমচুর (শুকনো আম), সাইট্রিক অ্যাসিড, বিট নুন এবং প্রচুর পরিমাণে লঙ্কা বা পিপ্পলির গুঁড়ো। এই মিশ্রণটি জিভে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরণের তীব্র অনুভূতি তৈরি করে, যা আদতে হজম নয় বরং ‘গ্যাস্ট্রিক স্টিমুলেশন’ বা পাকস্থলীকে উত্তেজিত করে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যাঁদের অম্বল বা ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’, ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (IBS) বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই বড়িগুলো হিতের বিপরীত হতে পারে। সাময়িকভাবে পেট হালকা মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ আবরণের ক্ষতি করে এগুলো। ফলে বুক জ্বালা বা গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা আরও জটিল হয়। এমনকী অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতির কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

Priyanka Chopra’s Favorite Hajmola: Digestive Aid or Gastric Irritant

প্রকৃতপক্ষে, হজমের সমস্যার মূলে থাকে ধীর গতির পাচনতন্ত্র বা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা। এই চটপটে বড়িগুলি এনজাইম সরবরাহ করে না বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করে না। তাই সাময়িক আরামের মোহে না পড়ে প্রাকৃতিকভাবে হজম শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। ভারী খাবারের পর মৌরি চিবানো, জোয়ানের জল, আদা চা কিংবা ভাজা জিরে সহযোগে ঘোল বা টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকরী বিকল্প। সুস্থ থাকতে জিভের স্বাদের চেয়ে পেটের স্বস্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *