দেবীর নামে বর্ধমানের এই গ্রাম, অষ্টভুজা মহিষাসুরমর্দিনীই পূজিত হন দক্ষিণাকালী হিসেবে

দেবীর নামে বর্ধমানের এই গ্রাম, অষ্টভুজা মহিষাসুরমর্দিনীই পূজিত হন দক্ষিণাকালী হিসেবে

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ধীমান রায়, কাটোয়া: ‘যিনি দুর্গা তিনিই কালী।’ মাতৃশক্তির দু’টি ভিন্ন রূপে একই মূর্তির পুজো হয় পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার কালিকাপুর গ্রামে। করুণা, শৃঙ্খলা এবং সুরক্ষার প্রতীক মহিষাসুরমর্দিনীর অষ্টভুজা মূর্তি সারা বছরই ‘জয়দুর্গা’ হিসাবে পুজো করা হয়। সেই মূর্তিই কার্তিকী অমাবস্যায় আদ্যাশক্তির রুদ্ররূপ দক্ষিণাকালী হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে। কাটোয়ার কালিকাপুর গ্রামে এই রেওয়াজ চলে আসছে কয়েক শতাব্দী ধরেই। আর কার্তিকী অমাবস্যায় কালিকাপুরের হয় দেবীর মহাপুজো।

কালীর নামানুসারেই গ্রামের নাম কালিকাপুর। কতকাল আগে এই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, তা কার্যত অজানা গ্রামবাসীদের কাছেও। কালিকাপুরের অদূরে রয়েছে কুমরি গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছোট একটি নদী। কৌমারী বা কুমরি নদী নামে পরিচিত। এটি ‘কুমরির বিল’ নামেও এলাকায় পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, কালিকাপুর গ্রামের এক পূজারী ব্রাহ্মণ স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৌমারী নদী থেকে দেবীমূর্তি তুলে এনে নিজের গ্রাম কালিকাপুরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর থেকেই এই মূর্তি পুজো চলে আসছে। মূর্তির গঠনশৈলী দেখে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, কালিকাপুরের এই জয়দুর্গা মূর্তিটি পাল-সেন যুগের সমসাময়িক কালের। কারণ পাল যুগের পাথরের তৈরি মূর্তিগুলির সঙ্গে এই মূর্তির কিছু সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। মতান্তরে বর্তমানে যা কুমরি নদী আদতে তা সপ্ত মাতৃকার এক মাতৃকা ‘কৌমারী নদী’।

Kali Puja in Kalikapur village

কথিত আছে, একসময় কৌমারী নদীর তীরেই এই পুজো হত। মন্দির কোনও একসময় ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর নদীগর্ভে তলিয়ে যায় মূর্তিটি। অনেক পরে অষ্টাদশ শতকের প্রথমদিকে কালিকাপুরের তৎকালীন জমিদার ওই পূজারী ব্রাহ্মণের উদ্ধার করা মূর্তিটি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর দেবীর নামেই গ্রামের নাম হয়ে যায় ‘কালিকাপুর’। গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবার দেবীর সেবাইত পরিবার। পুরোহিত রতন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রায় তিনফুট উচ্চতার অষ্টভূজা দেবীমূর্তির মধ্যে দেবী দুর্গা এবং কালী উভয় রূপের ছাপ রয়েছে। আবার দেবী জগদ্ধাত্রীর সঙ্গে যেমন হাতির অস্তিত্ব দেখা যায়, তেমনই এই মূর্তির পদতলের কাছে হাতির মাথাও রয়েছে। রণসাজে সজ্জিতা দেবী অসুরের চুলের মুঠি ধরে রয়েছেন।’’ নিয়ম রয়েছে কালিকাপুরে এই কালী ছাড়া অন্য কোনও কালীমূর্তির পুজো নিষিদ্ধ। এমনকী প্রতিবেশী কুমরি গ্রামের বাসিন্দারাও অন্য কালীমূর্তির পুজো করেন না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ







Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *