এবছর পুজোর প্রস্তুতি চলাকালীন অত্যন্ত অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বিখ্যাত পুজো উদ্যোক্তারা। কুঁদঘাটের অজেয় সংহতি ক্লাবে রবিবার মাঝরাতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এতে বিজেপি যোগও দেখছেন কেউ কেউ। তবে এই হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ থাক বা না থাক, এর জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুজোর প্রস্তুতি স্থগিত রাখলেন উদ্যোক্তারা। দাবি একটাই। যারা ক্লাবে ঢুকে হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। নইলে পুজোর কাজ আর এগোবে না। তবে কি এবার ৬৬ বছরে পুরনো অজেয় সংহতির পুজো হবে না? এনিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি হল? জানা যাচ্ছে, রবিবার রাতে অজেয় সংহতিতে পুজোর প্রস্তুতি চলাকালীন হামলা হয় ক্লাবে। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ১০–১৫ জন সশস্ত্র যুবক ক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, পুজো নিয়ে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে শিল্পীদের। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। তাই রবিবার ক্লাবেই তাঁদের খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। অভিযোগ তোলেন, দুষ্কৃতীরা সেসময়ই ক্লাবে ঢুকে অন্যতম সদস্য অরিজিৎ নন্দীর উপর হামলা করে। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই অরিজিৎ মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী রাজনৈতিক কারণে এই হামলা চালিয়েছে।
এরপরই পুজো উদ্যোক্তারা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাদের অনড় দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারি এবং শাস্তি দিতে হবে। তাঁদের আরও অভিযোগ, সেসময় হরিদেবপুর থানায় জানালেও তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাতেই ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা। মঙ্গলবার ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার জানিয়েছেন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অজেয় সংহতিতে পুজো প্রস্তুতির কাজ স্থগিত থাকবে। এনিয়ে দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের দাবি, কোনও ক্লাবে কোনও ভাঙচুর বা অশান্তি হয়নি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
