দু’টি পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভূমিষ্ঠ পাকিস্তানি শিশু, নেই মলদ্বার! কেন হয় এমন বিরল ত্রুটি?

দু’টি পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভূমিষ্ঠ পাকিস্তানি শিশু, নেই মলদ্বার! কেন হয় এমন বিরল ত্রুটি?

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


সম্প্রতি পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ঘিরে চিকিৎসা মহলে চাঞ্চল্য়। শিশুটি জন্মেছে দু’টি পুরুষাঙ্গ নিয়ে, কিন্তু তার মলদ্বার নেই! চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অত্যন্ত বিরল অবস্থার নাম ডিফ্য়ালিয়া (Diphallia)। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৬০ লাখে একজন শিশুর মধ্যে এ ধরনের ত্রুটি দেখা যায়।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিফ্যালিয়া সম্পূর্ণ বা আংশিক—দু-রকম হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মূত্রনালী, পরিপাকতন্ত্র বা অ্যানোরেক্টাল ত্রুটি যুক্ত থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবজাতকের দুটি পুরুষাঙ্গই গঠনের দিক থেকে স্বাভাবিক, যদিও একটির দৈর্ঘ্য অন্যটির তুলনায় প্রায় ১ সেন্টিমিটার বেশি। দুটি পৃথক ইউরেথ্রাল ছিদ্র রয়েছে এবং শিশুটি উভয় দিক দিয়েই প্রস্রাব করতে পারছে। আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় দেখা যায়, তার দুটি ইউরেটার আছে, তবে মূত্রথলি আংশিক একক বা ‘সিঙ্গল হেমি ব্লাডার’ ধরনের।

মলদ্বার না থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিগময়েড কলোস্টোমি করে অস্থায়ীভাবে মলত্যাগের পথ তৈরি করেন। অপারেশনের সময় Congenital pouch colon (টাইপ ৪) শনাক্ত হয়।

Diphallia rare birth defect in PakistanDiphallia rare birth defect in Pakistan
ছবি: প্রতীকী

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডিফ্যালিয়া একটি জন্মগত ত্রুটি, যেখানে দুটি পৃথক গঠন ও কার্যক্ষম পুরুষাঙ্গ তৈরি হয়। যেহেতু এ ধরনের ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা থাকতে পারে, তাই চিকিৎসায় শিশু সার্জেন, ইউরোলজিস্ট ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ-সহ একাধিক বিভাগের সমন্বিত দল প্রয়োজন হয়।

এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হয়, গর্ভাবস্থার তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের সময় ক্লোকাল মেমব্রেনের বিভাজনে ত্রুটি হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গের জটিলতা ভিন্ন হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট কারণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা কঠিন।

Diphallia rare birth defect in PakistanDiphallia rare birth defect in Pakistan
ছবি: প্রতীকী

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিস্তারিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ডাবল ইউরেথ্রা, ডাবল ব্লাডার বা পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য ত্রুটি একসঙ্গে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে যদি দু’টি মূত্রথলি কার্যকর না থাকে, তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি মূত্রথলি ও একটি ইউরেথ্রা অপসারণ করে রেনাল সিস্টেমকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ছোট বা কম বিকশিত পুরুষাঙ্গটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটি যদি স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে পারে, তবে এটি সব সময় তাৎক্ষণিক জরুরি অবস্থা নয়। প্রথমে শারীরিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়, এরপর ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর পাকিস্তানে জন্মানো শিশুটির শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক ছিল। অপারেশনের দ্বিতীয় দিনেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নিয়মিত ফলো-আপে রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিফ্যালিয়ার চিকিৎসা একেবারেই রোগীভেদে আলাদা। সংশ্লিষ্ট জটিলতা, অঙ্গের গঠন এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতেই চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *